রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য: ৫ বছরে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের আশা এনবিআরের

রাজস্ব ভবন
রাজস্ব ভবন | ছবি: সংগৃহীত
0

নতুন অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা যোগান দিতে হবে এনবিআরকে। যদিও তারা বলছে, লক্ষ্য অর্জন কঠিন হলেও অর্থবছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ আদায় হতে পারে। এদিকে, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ মনে করেন, রাজস্ব আদায়ে একটি সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো না গেলে থেকে যাবে ঘাটতি। আর জনগণের আয় না বাড়লে করজাল সম্প্রসারণ করেও তেমন লাভ নেই।

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়ন ঘিরে সংসদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেসব আলাপচারিতা তাতে এটা স্পষ্ট.চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব খাতের বিশাল ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা সামনের দিনগুলোতে বেশ ভোগাবে। আছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপও। রাষ্ট্র মেরামতের ক্ষেত্রে জনকল্যাণমুখী যেসব পরিকল্পনা চলছে এই সংসদে.তা বাস্তবায়নে থেকে যাচ্ছে যদি-কিন্তু সহ বেশ কিছু অনিশ্চয়তা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে জন্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যেখানে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি রাজস্ব আদায়ে গুরু দায়িত্বভার এনবিআরের কাঁধে। প্রতিষ্ঠানটিকে মোট রাজস্বের প্রায় ৮৭ শতাংশ অর্থ যোগান দিতে হবে। যদিও বিগত কোন বছরেই সেই দায়িত্ব আদায়ে লেটার মার্ক পায়নি সংস্থাটি।

রাজস্ব আদায়ের অন্যতম সমস্যা এনবিআরের জনবলে ঘাটতি। আছে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অভাবসহ বিভিন্ন কর সংক্রান্ত মামলা জটিলতায় অর্থ আটকা পড়ার মতো ঘটনা। এনবিআরের কর নীতি বিভাগ বলছে, কর আদায়ের সার্বিক কাঠামো ঘাটতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এনবিআর সদস্য (করনীতি) মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘কমপ্লিটলি আমরা ডিজিটালাইজেশন করে ফেলতে পারি এবং ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্গানাইজেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের বিভিন্ন উইংয়ের সাথে আমরা যদি ইন্টারকানেক্টিভিটিটাকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে পারি, তবে আমাদের মনে হয় ৫ বছরের ভিতরে আমরা কমপ্লিট ডিজিটালাইজেশনে যেতে পারবো। এ নিয়ে গভর্নমেন্ট ইজ ভেরি সিরিয়াস।’

এদিকে দেশের সার্বিক জনসংখ্যা বিবেচনায় কর-দাতার সংখ্যা ২ থেকে আড়াই কোটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে টিআইএন ধারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের মতো। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫০ লাখের কিছু বেশি মানুষ করের আওতায় এসেছে। যেখানে জিরো-রিটার্ন ধারী করদাতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ। সবশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে এনবিআরে হিসাব বলছে, প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আহরণের বিপরীতে এনবিআরের প্রশাসনিক খরচ মাত্র ২৫ পয়সা। যা এশিয়ার মধ্য সর্বনিম্ন। কর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় নিয়োজিত অনেকেরই মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় থাকলেও বছর শেষে তাদের বড় অংশ করের বাইরে। করজাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব লক্ষ্য পৌছাতে কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

 ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে বিশেষ করে আমি ঢাকা শহরের পাশাপাশি আমি কথা বলবো, নারায়ণগঞ্জ থেকে গাজীপুরে যে বিল্ডিংগুলো উঠেছে গত ১০ বছরে, শুধু এদেরকে করের আওতায় আনা গেলে দেখা যাবে যে আমাদের যে বাজেট, এই বাজেটটা ফিলাপ হয়ে আরো উদ্বৃত্ত থাকবে।’

কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘৫০ লাখ টাকার ওপরে ডিপোজিট আছে, এরকম কয়টা অ্যাকাউন্ট আছে? যদি আমি হিসাব করে দেখি। যদি দেখি যে না আমার ১ কোটির উপরে অ্যাকাউন্ট আছে যাদের এই থ্রেশহোল্ড পার হয়ে গেছে, তাতো আমারতো এটলিস্ট ১ কোটি করদাতা আমার থাকার কথা। অন্য অ্যাসেট বাদ দিলাম, ল্যান্ড বাদ দিলাম, বিল্ডিং বাদ দিলাম, গোল্ড বাদ দিলাম, মিনিমাম লেভেলেতো ওইটা থাকা উচিত। এই ডাটাগুলো আসলে কোথাও অ্যাভেলেবল নাই। থাকলেও সেগুলো ইন্টিগ্রেটেড না।’

এনবিআর সাবেক এই চেয়ারম্যান মনে করেন, মানুষের আয় বাড়ানো ছাড়া করজাল সম্প্রসারণ ভাবনা খুব একটা কাজে আসবে না। একইসাথে রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের উপর নির্ভর কমানো না গেলে বছর শেষে বিশাল ঘাটতি থেকে যাবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘কর আহরণের ক্ষেত্রে একজন করদাতাও যেমন দায়ী, ওই ইকোনমিক সার্ভিস যে দেয়, সেও দায়ী।’

রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাক্ষ করের পাশাপাশি পরোক্ষ করে জোর দেয়াসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে এগিয়ে আসার তাগিদও দেন বিশেষজ্ঞরা।

এএম