স্মার্টফোন আর ট্যাবনির্ভর ঢাকার শিশুরা; বাড়ছে অনিদ্রা-স্থূলতা

স্মার্টফোন ব্যবহার করছে শিশুরা
স্মার্টফোন ব্যবহার করছে শিশুরা | ছবি : এখন টিভি
0

স্মার্টফোন আর ট্যাবের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে ঢাকার শিশুরা। আইসিডিডিআর বির নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুরা মেজাজ হারাচ্ছে, ভুগছে অনিদ্রা ও স্থূলতায়। এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন অভিভাবকরা?

শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি এখন এক ‘অদৃশ্য মহামারী’। ৬ ইঞ্চির ফ্রেমে আটকে গেছে শৈশবের দুরন্তপনা। শুরুতে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা সুরক্ষায় ঘরে রাখতে এ ডিভাইস খুব কার্যকর মনে হলেও এখন এ ডিজিটাল মেশিনগুলো হয়ে উঠেছে অভিভাবকদের মাথা ব্যথার কারণ।

অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘দেখা যায় তারা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করছে। আমি যেহেতু একজন ওয়ার্কিং ওম্যান সময় পাই না। তারা সুযোগ পেলে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টাও মোবাইল ব্যবহার করে। আমার ছেলের চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। অনেক ব্লিংকিং হচ্ছিলো। ডাক্তার বলেছে অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের কারণেরই এটি হয়েছে।’

আন্তর্জাতিকভাবে দিনে ২ ঘণ্টা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার নিরাপদ বলা হলেও আইসিডিডিআরবির গবেষণা বলছে, শুধু ঢাকার শিশুরাই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় কাটায় ডিজিটাল স্ক্রিনে।

রাজধানীর ছয়টি স্কুলের ৬ বছর থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর চালানো গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকানোর কারণে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই ভুগছে মাথাব্যথায়। কমে যাচ্ছে ঘুমের সময়। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু। অতি-চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে প্রতি ৫ জনের মধ্যে প্রায় ২ জন শিশু।

আরও পড়ুন:

এ গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকনের পরামর্শ, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা বা চোখের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজের মতো লক্ষণ দেখলে উপেক্ষা না করা। পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে বাড়াতে হবে কোয়ালিটি টাইম।

তিনি বলেন, ‘সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমার সন্তান। সারা দিন পর আমার সন্তান আমার কাছে আসবে, আমাকে বিরক্ত করবে। আমাকে কাছে পাওয়ার জন্যই তো সে এতো কিছু করছে। তখন আমি যদি অন্য কাজে ইম্পরটেন্স দেখাই তাহলে আমার বাচ্চা কি করবে? বাচ্চাদের কোয়ালিটি টাইম দিতে হবে বেশি। কোয়ালিটি টাইম মানে আমি সারা দিনে এক ঘণ্টাও সময় কাটাই ওর মতো করে ডিভাইস ফ্রিভাবে। সেটিই যথেষ্ট একটি বাচ্চার জন্য।’

জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই প্রযুক্তি সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ এ বিশেষজ্ঞের।

তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার করার জন্য আমাদের মানসিক, সামাজিকভাবে যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তা যদি আমরা না জানি তাহলে কীভাবে এর সমাধান বের করবো।’

প্রযুক্তি বন্ধ করা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই সমাধান। শিশুদের শৈশবকে নিরাপদ করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফএস