লোহিত সাগরে জাহাজ মাসুল চালুর পরিকল্পনা নেই ইয়েমেনের হুথিদের

বাব আল-মান্দেব উপকূলে নোঙর করা নৌকা
বাব আল-মান্দেব উপকূলে নোঙর করা নৌকা | ছবি: আল জাজিরা
0

লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কোনো ধরনের মাসুল বা কর বসানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। আজ (শনিবার, ১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হুথিদের পরিচালিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি) এই বিবৃতি জারি করেছে। সংস্থাটি বাব-আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি তদারকি করে। এইচওসিসি জানায়, তাদের ‘নিরাপদ ট্রানজিট সেবা’ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং বিনা মূল্যের। যাতায়াতের বিনিময়ে কেউ অর্থ দাবি করলে তারা ইয়েমেন বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না। এ বিষয়ে কোনো অননুমোদিত পক্ষকে অর্থ প্রদান বা তথ্য না দিতে জাহাজ সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানঘনিষ্ঠ হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর মাসুল আরোপের কথা ভাবছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহ পর এমন খবর আসে। ওই সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে তেহরান সফরের সময় হুথিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে এবং মাসুল আদায়ের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠনে ইরান সহায়তা দিচ্ছে।

বাব-আল-মান্দেব প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালিতে মাসুল বসানোর বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাসুল আদায়ের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের জেরে এ বছরের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইয়েমেনের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, হুথিরা মূলত ‘ইরানি মডেল’ অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প রুট হিসেবে বাব-আল-মান্দেব প্রণালির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে এখানে কোনো ধরনের কর আরোপ করা হলে রিয়াদ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। হুথিদের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব চলতি সপ্তাহে ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি নৌ-জোট ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য এই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

২০২৩ সালে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর হামলা বন্ধ থাকলেও এখনো এ পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

এএম