
তরুণদের বাকপটুতা ও প্রার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা: এক ব্যতিক্রমী নির্বাচনের সাক্ষী দেশ
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করছে বিএনপি। তবে, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত-এনসিপি যৌক্তিক বিরোধিতার মধ্য দিয়ে কার্যকর সংসদ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। সেইসাথে, তরুণ সংসদ সদস্যরা তাদের বাকপটুতা দিয়ে সংসদীয় বিতর্ক জমিয়ে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকার নিদর্শনও এবারের নির্বাচনের ব্যতিক্রম দিক বলে মত দিচ্ছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনে বিএনপির অনড় অবস্থান; গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে দলটির অবস্থান কী হবে?
বিএনপির দেয়া ইশতেহারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রয়েছে। তবে দলটি বলছে, তারা গত অক্টোবরে স্বাক্ষর অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। বিএনপি সংস্কার আলোচনার শুরু থেকেই সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলে আসছে। দলটির অভিযোগ, তাদের উপেক্ষা করেই মোট ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গণভোটের প্রশ্ন। সবশেষ, ইশতেহারে নিজ দলের অবস্থানে ‘অটল’ থাকায় গণভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিএনপি জয়লাভ করলে ‘রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট’ তৈরি হবে।

ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের উচ্ছ্বাস; শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠু ভোটের সম্ভাবনা কতটুকু?
প্রায় দেড় যুগ পর প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে ভোটাররা। বঞ্চনার নানা ক্ষোভ থাকলেও ভোট নিয়ে সবার উচ্ছ্বাস অনেক। তরুণরাও বলছেন, জুলাই পরবর্তী নির্বাচনে তারা কারচুপি-অনিয়ম মেনে নেবেন না। যদিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, দৃশ্যমান অপরাধ না ঘটলেও শঙ্কা আছে সুক্ষ্ণ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। তবে সশস্ত্রবাহিনী, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সব বিভাগের জন্য এ নির্বাচন অতীতের কালিমা মোচনের সুযোগ বলে মনে করছেন তারা।

ভোটের ময়দানে জেন-জিদের প্রভাব; সংস্কার ও কর্মসংস্থানই প্রধান চাওয়া
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে জেন-জিদের ভোট। মোট ভোটারের চার ভাগের এক অংশ তরুণ প্রজন্ম, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। নির্বাচিত সরকারের প্রতি জেন-জিদের অন্যতম চাওয়া সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এদিকে বিশ্লেষকরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে ভোটারদের অনেকটা প্রভাবিত করতে পারে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বড় দলগুলোর কাদা ছোড়াছুড়ি, ভোটের মাঠে থাকবে এর প্রভাব?
নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে চলছে কথার লড়াই। ভোটের মাঠের বিভিন্ন সমাবেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা গুপ্ত পরিভাষা ব্যবহার করে চলছে কাদা ছোড়াছুড়িও। ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থানসহ ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নারীদের নিয়ে দল দুটির দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে যতটা সম্ভব সহনশীল হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির প্রভাবে তৃণমূলে ঘটতে পারে বড় ধরনের সহিংসতা।

আইন থাকলেও নেই প্রয়োগ; অলিগলি ছেয়ে গেছে নিষিদ্ধ সিনথেটিক ব্যানারে
নির্বাচনি আইন আছে, বিধিমালাও আছে। তবে তা না মানার প্রবণতা রয়েছে তৃণমূল থেকে শীর্ষ সব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে। পরিবেশ বাঁচাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে পোস্টার এবার তার আধিক্য শহরজুড়ে কম থাকলেও অলিগলি ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক ব্যানারে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো এখনই থামানো না গেলে অপরাধ লাগামহীন হতে পারে।

রাজধানীর কাছেই ‘অন্ধকার দ্বীপ’: ৫৪ বছরেও মেলেনি সেতু, ৩ লাখ মানুষের নিত্য দুর্ভোগ
একটি সেতুর অভাবে রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। খেয়া নৌকায় নদী পারাপারে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। মিরপুর থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব হলেও গেল ৫৪ বছরেও এখানে গড়ে ওঠেনি কোন হাসপাতাল, নেই তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নানা সংকটে পিছিয়ে কাউন্দিয়া-বনগ্রামের বাসিন্দারা। একই সংকটে রাজধানীর উত্তরখান-দক্ষিনখান এলাকার ৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা। রাত হলেই অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় এলাকাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট এলেই প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও, কথা রাখেনি কেউ।

নির্বাচন ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ফেক ভিডিও-ফটোকার্ডের ছাড়াছড়িতে বিভ্রান্ত ভোটাররা
নির্বাচনের বাকি অল্প কিছু দিন, তার আগে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ফেক ভিডিও ও ফটোকার্ড। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভোটাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এআই সংক্রান্ত একটি আইন করা উচিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। যেহেতু সেটি হচ্ছে না তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও গুজব প্রতিরোধে ইসিকে বিশেষ সেল গঠনের পরামর্শ তাদের।

ভোটের দায়িত্বরত সদস্যদের পরিবহনে গাড়ি রিক্যুজিশন চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ
নির্বাচনে দায়িত্বপালন করবেন ১৭ লাখের বেশি মানুষ। যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই থাকবে ৯ লাখের বেশি। ভোটের দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পাশাপাশি যৌথবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাটেলিয়ান আনসারের এই বিপুল পরিমাণ সদস্যদের পরিবহনের জন্য এরমধ্যেই রিক্যুজিশন দেয়া হচ্ছে গাড়ি। ভোট সঙ্গীদের পরিবহনে কত টাকা খরচ হবে তা এখনও নিশ্চিত নয় নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে ধর্মীয় বক্তব্য ও পোশাকি পরিবর্তন, প্রতারণার শামিল বলছেন বিশ্লেষকরা
নির্বাচন এলেই ভোট টানতে ধর্মীয় বক্তব্য ও পোশাকি পরিবর্তনকে পুঁজি করেন অনেক প্রার্থী। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতি নিয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে ধর্মের আবহ। তখন ধর্মই যেন হয়ে ওঠে ভোটের হিসাব মেলানোর সবচেয়ে সহজ আশ্রয়। শুধু ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

রাজধানীতে অরক্ষিত বৈদ্যুতিক কাঠামো: বাড়ছে ঝুঁকি, আমলে নিচ্ছে না সিটি করপোরেশনের অভিযোগও!
রাজধানীর রাজপথের দু’ধারে বসানো বৈদ্যুতিক কাঠামো যেন অরক্ষিত ভাণ্ডার। প্রকাশ্যেই কংক্রিট ভেঙে কেটে নেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক তার। যাতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ। বারবার অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি খোদ সিটি করপোরেশন। এমন অবস্থায় সামাজিক মূল্যবোধ আর নিরাপত্তার কড়াকড়িই পারে সমাধান আনতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর খরা; রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন
এবারের নির্বাচনি ট্রেনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দলে নেই কোনো নারী প্রার্থী। বিভিন্ন দলের নারী নেত্রীরা বলছেন, সরাসরি ভোটে অংশ নিতে নারীদের প্রতি বৈষম্য কাটেনি। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে না রাজনৈতিক দলগুলো। এমন বাস্তবতায় নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নির্বাচনের মাঠে তাদের গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান নারীদের।