নেই স্কুল ভবন, শামিয়ানার নিচে চলছে বৈঠাখালী স্কুলের পাঠদান

শামিয়ানার নিচে চলছে পাঠদান
শামিয়ানার নিচে চলছে পাঠদান | ছবি: এখন টিভি
0

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দেড়মাসেরও বেশি সময় ধরে শামিয়ানার নিচে চলছে পাঠদান। এতে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষাদান, রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিদ্যালয়ের ১৪৬ জন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা। দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।

১৯৬২ সালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়- বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। আশপাশের বহু গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৬ জন। শিক্ষক আছেন ৫ জন, আর কর্মচারী ৩ জন।

১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মিত হয়। গত ২৩ জুন তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলাকালে বিমের নিচের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি কক্ষে এখনো অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় চত্বরে শামিয়ানা টানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলমান রাখা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ঠিকমতো পড়াশুনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষ সংকট ও রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষার্থীরা জানান, পড়া শোনার সময় বৃষ্টি হলে তারা ভিজে যায়।

এদিকে, বিম খসে পড়ার পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অভিভাবকরা। দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের। শিক্ষকরা জানান, শ্রেণীকক্ষের অভাবে যথার্থ পাঠদানে ব্যহত হচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘ সময়ে কোন সংস্কার হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও মেলেনি সমাধান।

বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ‘ভবনের জন্য আমি উপজেলা স্যারের কাছে এবং ইঞ্জিনিয়ার অফিসে আবেদন করেছি। তারা হয়তো চেষ্টা করছে, জানি না কি অদৃশ্য কারণে এখানে ভবন দেয়া হয়নি।’

উপজেলা প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে টিনশেডের তিনটি কক্ষ তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগও করা হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে আমরা পাঠিয়েছিলাম ওখানে, মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। যখন এটা পরিত্যক্ত বা ব্যবহারে অনুপযোগী ইয়ে হওয়ার কারণে আমরা এটাকে কন্ডেম ঘোষণা করি এবং এটা ওখানে আর কোনো ধরনের পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হলো। আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে, যে যত দ্রুত সম্ভব ওখানে একদিনে ভবন তৈরি করা হয়।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে- এ উপজেলায় ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে আরও ৪২টি।

জেআর

আরও পড়ুন:
এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর
No Article Found!