বগুড়ায় রোগ শনাক্তের পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারভেদে খরচের পরিমাণ কয়েকগুণ কম-বেশি। ছোট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে নামিদামি সেন্টারগুলোর খরচের বিস্তর ফারাক। রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন, কম খরচে রোগ শনাক্তের পরীক্ষা করে প্রতারিত হচ্ছেন, না কি বাড়তি খরচে পরীক্ষা করে পকেট কাটা যাচ্ছে?
রাজিব সেলিম
বগুড়া জেলা জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিবন্ধিত পাঁচ শতাধিক ছাড়াও যত্রতত্র অনিবন্ধিত ক্লিনিক রয়েছে অসংখ্য, যার হিসাব নেই সরকারি কোনো দপ্তরেই। এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে একই সেবার খরচে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলোর খরচ ডায়াগনস্টিকভেদে কমবেশি হয় চার-পাঁচ গুণ। রক্ত, হরমোন ও আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় খরচের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। হোল অ্যাবডোমেন আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে ডায়াগনস্টিক ভেদে রোগীকে গুনতে হয় ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পরীক্ষার খরচ কম-বেশি নেয়া প্রসঙ্গে নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা কথা না বললেও, কম খরচে পরীক্ষা করা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, একই কিট ও মেশিনে পরীক্ষা করে তারা খরচ কম নিচ্ছেন সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিন্ন ভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাই ফি আদায়ের প্রক্রিয়ায় একটা নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার বলে মনে করছেন তারা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকা পপুলার ও ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার খরচে রয়েছে বড় ব্যবধান। পরীক্ষার খরচের তালিকায় বাড়তি দাম লেখা থাকলেও প্রায় সব রোগীকেই দেয়া হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড়।
কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড় দিয়ে কম নিচ্ছেন, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড় ছাড়াই নামমাত্র খরচে করছে রোগ নির্ণয়। এতে পরীক্ষার সঠিক খরচ নিয়ে ধোঁয়াশায় রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, সরকারিভাবে খরচ নির্ধারণ করা হোক সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার।
রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষার বাড়তি খরচ নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান সিভিল সার্জন। এছাড়া অবৈধ ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. ফারজানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা মনিটরিং হয় এবং এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে, সেই অভিযোগের তদন্ত শেষে এর ফলও জানানো হয়।’
বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট নিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৫০২টি।