পে ফিক্সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী অক্টোবর মাসের নিয়মিত বেতনের সাথেই বিগত ৩ মাসের (3 Months Salary Arrears) বকেয়া বা এরিয়ার অর্থ হাতে পাবেন (Govt Employees iBAS++ Pay Fixation Rules & Salary Arrears)।
আরও পড়ুন:
আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশের সহজ নিয়ম (How to Login to iBAS++ Portal)
‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অর্থ বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আইবাস প্লাস প্লাস অনলাইন সিস্টেমে (iBAS++ Pay Fixation Online Portal) সম্পন্ন হবে। পদমর্যাদা অনুযায়ী সিস্টেমে লগইন বা প্রবেশের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
- গেজেটেড কর্মকর্তা (Gazetted Officers): নিজেদের ইউজার আইডি (User ID) ও পাসওয়ার্ড (Password) ব্যবহার করে সরাসরি আইবাস++ সিস্টেমে প্রবেশ করবেন।
- নন-গেজেটেড কর্মচারী (Non-Gazetted Employees): জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID Card Number) ও জন্মতারিখ (Date of Birth) ব্যবহার করে পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
- ওটিপি যাচাইকরণ (OTP Verification): প্রবেশকালে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওয়ান টাইপ পাসওয়ার্ড (OTP) পাঠানো হবে।
- প্রবাসে অবস্থানরত কর্মচারী: বিদেশে অবস্থানরত কর্মচারীদের জন্য নিবন্ধিত ই-মেইলে (Registered Email) ওটিপি পাঠানোর সুবিধা রাখা হয়েছে।
- এনআইডি সংক্রান্ত নির্দেশনা: যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের পে ফিক্সেশনের আগে এনআইডি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন:
ধাপে ধাপে আইবাস++ পে ফিক্সেশন করার নিয়ম (Step-by-Step iBAS++ Pay Fixation Procedure)
- ১. তথ্য প্রদান: আইবাস++ পোর্টালে ঢুকে নির্দিষ্ট পে ফিক্সেশন অপশনে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ইনপুট দিতে হবে।
- ২. স্বয়ংক্রিয় স্কেল প্রদর্শন: তথ্য প্রদানের পর সিস্টেমে নতুন কাঠামো অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত নতুন মূল বেতন দেখা যাবে।
- ৩. আবেদন জমা ও এসএমএস: সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন সাবমিট করার পর নিবন্ধিত মোবাইলে একটি কনফার্মেশন এসএমএস (Confirmation SMS) আসবে।
- ৪. কর্তৃপক্ষের যাচাই: গেজেটেড কর্মকর্তাদের বিবরণী সরাসরি হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যাবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সার্ভিস বুক ও পূর্বের চাকরির নথি অনুযায়ী তথ্য যাচাই করবেন।
আরও পড়ুন:
হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও ডিজিটাল নম্বর (Accounts Office Approval & Verification Number)
প্রদত্ত তথ্য ও ডকুমেন্টস সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় (Accounts Office) অনলাইনে তা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।
- ডিজিটাল ট্র্যাকিং: অনুমোদনের সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয় একটি বিশেষ 'যাচাই নম্বর' (Verification Number) তৈরি হবে, যার ফলে প্রচলিত হাতে লেখা বা সনাতন স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না।
- সার্ভিস বুকে লিপিবদ্ধকরণ: অনলাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চাকরির নথিতে (Service Book) ডিজিটাল যাচাই নম্বর ও নতুন বেতন লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হাতে স্বাক্ষর করবেন।
তথ্য প্রদানে সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নথি (Required Documents & Precautions)
ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে বেতন নির্ধারণে বড় ধরণের জটিলতা হতে পারে। তাই তথ্য পূরণের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে:
- প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ: পদোন্নতি (Promotion), বদলি (Transfer), টাইম স্কেল (Time Scale), সিলেকশন গ্রেড (Selection Grade) বা উচ্চতর গ্রেডের অফিস আদেশ (Office Order Copy) ও প্রাসঙ্গিক নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
- তথ্য মিলিয়ে দেখা: নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনের তথ্য ভালোভাব মিলিয়ে নিতে হবে।
- কার্যালয়ের সহায়তা: অনলাইন তথ্য দাখিলে কোনো অসংগতি বা সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার (Accounts Officer) সহায়তা নেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
নতুন বেতন কাঠামো ও বকেয়া হিসাবের নিয়ম (Pay Scale Implementation & Arrears Calculation)
নবম জাতীয় বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের ৭০ শতাংশের জন্য সরকারের ৩৭,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বেতন ও বকেয়া যেভাবে কার্যকর হবে:
- ভিত্তি বেতন: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনকে ভিত্তি ধরে নতুন বেতন নির্ধারিত হবে।
- প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬): মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। অক্টোবরের বেতনের সাথে এই হারেই ৩ মাসের বকেয়া (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) পরিশোধ করা হবে।
- দ্বিতীয় ধাপ (১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭): মূল বেতনের পার্থক্যের ৭০ শতাংশ দেওয়া হবে।
- তৃতীয় ধাপ (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): পুরো নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।
- ভাতা প্রদান (১ জানুয়ারি ২০২৮): নতুন কাঠামোর বিভিন্ন সুবিধা ও ভাতা ২০২৮ সাল থেকে প্রদান করা হবে।
উচ্চতর গ্রেডের নতুন নিয়ম ও টাইম স্কেলের হিসাব (Higher Grade & Time Scale Rules)
উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি: কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে ১ম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ৬ বছর পূর্ণ হলে ২য় উচ্চতর গ্রেড পাবেন।
টাইম স্কেলের জটিলতা নিরাসন: আগের বেতন কাঠামোতে যারা ইতোমধ্যে একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তারা নতুন কাঠামোয় একই পদে আর কোনো উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।
একবার প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে: ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত যারা একই পদে একটিমাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়েছেন, তারা পরবর্তীতে ৬ বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হবেন।
আরও পড়ুন:
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ (Accounts Officers Online Training)
সমগ্র প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের 'এসপিএফএমএস' (SPFMS) কর্মসূচির আওতায় সিএএফও (CAFO), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (DCA), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (DAFO) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের (UAO) অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

