প্রবাসী কার্ড কী এবং কেন দেওয়া হচ্ছে? (What is Probashi Card and why it is being introduced)
প্রবাসী কার্ড মূলত প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড (Digital identity and service card for expatriates)। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ভেতরে এবং প্রবাসে সরকারি ও আর্থিক নানা সুবিধা পাবেন।
- ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও কিউআর কোড (Digital ID and QR Code): প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, প্রবাসীরা এটি পাসপোর্টের বিকল্প বা ডিজিটাল আইডি কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। কার্ডটিতে থাকা কিউআর কোড (QR code scanning system) স্ক্যান করলেই প্রবাসীর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এটি ব্যবহার করা যাবে, সবসময় প্লাস্টিক কার্ড সাথে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
- রেমিট্যান্স উৎসাহিত করা (Encouraging legal remittance): বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতেই সরকারের এই নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
প্রবাসী কার্ডের বিশেষ সুবিধাসমূহ (Key benefits and features of Probashi Card)
এই কার্ডের বড় একটি দিক হলো এর অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। প্রবাসীরা এতে যে সমস্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন:
- ডুয়েল কারেন্সি ও অনলাইন শপিং (Dual Currency Card and Online Payment): এই কার্ডটিতে আধুনিক ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা যে দেশে আছেন, সেখানকার মুদ্রায় এবং বাংলাদেশে টাকায় কেনাকাটা বা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসে বসেই পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশে নির্দিষ্ট সীমার কেনাকাটা করে দেওয়া যাবে।
- এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ডিসকাউন্ট (Airport Lounge access and Travel discounts): বিমানবন্দরে বিশেষ প্রটোকল সেবা, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেলে ডিসকাউন্ট পাবেন কার্ডধারীরা।
- প্রবাসী সিটি ও আবাসন সুবিধা (Probashi City housing plot layout): বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা পাবেন তারা।
- বিএমইটি বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা (BMET insurance and rehabilitation facilities): বিএমইটির বীমা সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন:
কারা এবং কীভাবে পাবেন প্রবাসী কার্ড? (Who will get Probashi Card and registration process)
প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের ইতোমধ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি কার্ড (BMET card holders) আছে, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে।
- নিবন্ধন ফি ও বিতরণ মাধ্যম (Registration Fee and Embassy Distribution): যাদের বিএমইটি কার্ড আছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো নতুন ফি নাও লাগতে পারে। তবে নতুনদের নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের (Bangladesh Embassy abroad) মাধ্যমে এই কার্ড প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রবাসীদের সুযোগ: যেসব প্রবাসী শিক্ষার্থী বা অন্য ভিসায় গিয়ে কর্মসংস্থানে জড়িয়েছেন এবং বিএমইটি কার্ড নেই, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন:
প্রবাসী কার্ড চালু আগস্টে: লাউঞ্জ, টিকিট ছাড় ও রেমিট্যান্স সুবিধাসহ যা যা থাকছে
একনজরে: প্রবাসী কার্ডের সুবিধা, আবেদনের যোগ্যতা, লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যাংকিং ফিচার
১. কিউআর কোড স্ক্যান করে পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা (স্মার্টফোনেই ব্যবহারযোগ্য)।
২. ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে আবাসন বা প্লট ক্রয়ে বিশেষ ছাড়।
আবেদনের যোগ্যতা: প্রাথমিক ধাপে বিএমইটি (BMET) কার্ডধারীদের নতুন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এই কার্ড বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
বিভাগ / বিষয়
বিস্তারিত সুবিধা ও আপডেট তথ্য
প্রদানের মাধ্যম / লক্ষ্যমাত্রা
উদ্বোধনের সময় ও লক্ষ্যমাত্রা
আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী জুনের মধ্যে ২ লাখ কার্ড বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
জনতা ব্যাংক ডেবিট কার্ড
অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সুবিধা
ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সুবিধা, রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা এবং পরিবারকে নির্দিষ্ট সীমায় অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা।
পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত
ভ্রমণ ও এয়ারপোর্ট সুবিধা
বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহার, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় এবং বিএমইটি বীমা সুবিধা বহাল থাকবে।
এয়ারপোর্ট প্রটোকল সেবা
আবাসন ও ডিজিটাল পরিচয়
ডিজিটাল আইডেন্টিটি কার্ড
আরও পড়ুন:





