রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি, স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস জীবন্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। একনজরে দেখে নিন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা কী কী দেখতে পাবেন।
আরও পড়ুন:
মূল ফটক, প্রতীকী কবর ও রক্তঝরা ভাস্কর্য (July Memorial, Symbolic Graves & Sculptures)
জাদুঘরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে নানা ফলের বাগান ও ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শিরোনামের বিশেষ প্যানেল। এর পাশে দক্ষিণ দিকের সবুজ মাঠে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই মেমোরিয়াল’।
- হাজারো শহীদের নাম: সাদা মার্বেল পাথরের বৃত্তাকার মেমোরিয়ালে শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে খুন হওয়া প্রায় চার হাজার শহীদের নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। মাঠের ভেতরের অংশটি সবুজ ঘাসে ঢাকা সারি সারি প্রতীকি কবরের মতো।
- আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভাস্কর্য: মাঠ জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের মর্মান্তিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর ভাস্কর্য। এর মধ্যে রিকশায় গুলিবিদ্ধ লাশ, সাঁজোয়া যানে ঝুলে থাকা আন্দোলনকারী, সাইকেল নিয়ে মিছিলে যাওয়া স্কুলছাত্রী, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নির্যাতন এবং গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ (Aynaghar)-এর প্রতীকী অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিচতলা: শাসনব্যবস্থার নির্মমতা ও দুর্নীতির দলিল (Gono Bhaban Floor Plans and Evidence of Corruption)
দোতলা মূল জাদুঘর ভবনের নিচতলায় স্থান পেয়েছে বিগত সরকারের গুম, খুন ও নির্যাতনের ভয়াবহ ইতিহাস।
- গ্লোব টিভি ও কল রুম: উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশের পরই বড় কক্ষে রাখা কাচের গ্লোব টিভিতে ভেসে উঠছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও। ‘কল রুম’ (Call Room)-এর গণরোষের ভাঙচুর চিহ্নিত মেঝে অবিকৃত রাখতে বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যার ওপর দিয়ে দর্শনার্থীরা হাঁটতে পারবেন।
- নির্যাতনের যন্ত্রপাতি ও নথি: আয়নাঘরে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, চাবুক, বৈদ্যুতিক চেয়ারসহ নানা নির্যাতনের সরঞ্জাম রাখা রয়েছে। এছাড়া ক্রসফায়ার, প্লট বরাদ্দ ও আর্থিক লুটপাটের হাজারো প্রমাণের গোপন নথিপত্র এবং বহুল আলোচিত লাল টেলিফোনও দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন।
আরও পড়ুন:
দোতলা: আন্দোলন, শহীদের স্মৃতি ও ইমার্সিব প্রজেক্ট (Martyrs Personal Belongings & Immersive Project)
জাদুঘরের দোতলাটি সাজানো হয়েছে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও শহীদদের স্মারক দিয়ে।
- শেখ হাসিনার শয়নকক্ষে শহীদের রক্তমাখা শার্ট: শেখ হাসিনার সাবেক শয়নকক্ষের ভাঙচুর হওয়া বিছানায় পেতে রাখা রয়েছে শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট।
- ইমার্সিভ প্রজেক্ট (360 Degree Immersive Project Room): দোতলার বিশেষ এই কক্ষে ১০টি ডিজিটাল প্রজেক্টর ও ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্রিনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলো এমনভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে দর্শনার্থীদের মনে হবে তারা সরাসরি আন্দোলনের ভেতরেই অবস্থান করছেন। এছাড়া শহীদদের বই-খাতা, পোশাক এবং ৫০০-এর বেশি স্মৃতিচিহ্ন এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
সময়সূচি, টিকিট ও পরিদর্শনের নিয়মাবলী (July Museum Ticket Price & Visiting Time)
দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা ও স্থান সংকুলানের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
- পরিদর্শনের ৩টি শিফট: বেলা ১১টা থেকে ১টা, বেলা ১টা থেকে ৩টা এবং শেষ পর্ব বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। (প্রতি শিফটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন প্রবেশ করতে পারবেন)।
- টিকিটের মূল্য: বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা। সরাসরি জাদুঘরের কাউন্টার কিংবা ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতি জাদুঘর’-এর ওয়েবসাইট (july36.gov.bd) থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে।
উল্লেখ্য, মূল ভবন দেখা শেষে মাঠে ঘোরাঘুরি, পুকুরপাড় বা ক্যাফেটেরিয়ায় সময় কাটানোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
আরও পড়ুন:
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত: প্রতীকী কবর, ভাস্কর্য ও শেখ হাসিনার শয়নকক্ষে যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা
একনজরে সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনী, ইমার্সিভ রুম, টিকিটের মূল্য ও দর্শনের সময়সূচি
প্রবেশপথ ও জুলাই মেমোরিয়াল
• জুলাই মেমোরিয়াল: সাদা মার্বেল পাথরে প্রায় ৪,০০০ শহীদের নাম উৎকীর্ণ এবং সামনে প্রতীকী কবর।
• অন্যান্য ভাস্কর্য: রিকশায় লাশ, সাঁজোয়া যান, আয়নাঘরের প্রতিকৃতি, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের স্মারক।
ভবনের নিচতলা (গোপন নথি ও কাচ)
• গ্লোব টিভি ও কাচের মেঝে: ঐতিহাসিক 'কল রুম'-এর ভাঙচুর অবিকৃত রাখতে কাচ দিয়ে ঢাকা মেঝে।
• নির্যাতনের সরঞ্জাম: আয়নাঘরের ইলেকট্রিক শক ও নির্যাতনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, গোপন নথি এবং লাল টেলিফোন।
ভবনের দোতলা ও শয়নকক্ষ
• হাসিনার শয়নকক্ষ: ভাঙচুর হওয়া বিছানায় শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা জামা-কাপড় রাখা।
• ইমার্সিভ প্রজেক্ট: ৩৬০ ডিগ্রি ১০টি প্রজেক্টরে জুলাই আন্দোলনের জীবন্ত ৩ডি অভিজ্ঞতা।
সময়সূচি ও টিকিটের তথ্য
• সময়সূচি: বেলা ১১টা-১টা, ১টা-৩টা এবং ৩টা-সন্ধ্যা ৬টা (প্রতি শিফটে ৩০০ জন)।
• টিকিটের মূল্য: বড়দের জন্য ৫০ টাকা, শিশুদের ২০ টাকা (অনলাইন ও কাউন্টার থেকে সংগ্রহযোগ্য)।
বিষয় / আকর্ষণ ক্যাটাগরি
বিস্তারিত তথ্য ও প্রদর্শনী নির্দেশিকা
(Entrance & July Memorial)
(Ground Floor Displays)
(2nd Floor & Immersive Room)
(Schedule & Ticket Price)



