জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত; প্রতীকী কবর, ভাস্কর্যসহ যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত | ছবি: এখন টিভি
0

সাধারণ দর্শনার্থীদের দর্শনের জন্য আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ (July Uprising Memorial Museum)। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ (Gono Bhaban)-কে রূপান্তরিত করে নির্মিত এই জাদুঘরটি গতকাল (বুধবার, ৫ আগস্ট) সকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনের পর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে (July 36 Mass Uprising Memorial Museum)।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি, স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস জীবন্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। একনজরে দেখে নিন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা কী কী দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন:

মূল ফটক, প্রতীকী কবর ও রক্তঝরা ভাস্কর্য (July Memorial, Symbolic Graves & Sculptures)

জাদুঘরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে নানা ফলের বাগান ও ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শিরোনামের বিশেষ প্যানেল। এর পাশে দক্ষিণ দিকের সবুজ মাঠে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই মেমোরিয়াল’।

  • হাজারো শহীদের নাম: সাদা মার্বেল পাথরের বৃত্তাকার মেমোরিয়ালে শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে খুন হওয়া প্রায় চার হাজার শহীদের নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। মাঠের ভেতরের অংশটি সবুজ ঘাসে ঢাকা সারি সারি প্রতীকি কবরের মতো।
  • আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভাস্কর্য: মাঠ জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের মর্মান্তিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর ভাস্কর্য। এর মধ্যে রিকশায় গুলিবিদ্ধ লাশ, সাঁজোয়া যানে ঝুলে থাকা আন্দোলনকারী, সাইকেল নিয়ে মিছিলে যাওয়া স্কুলছাত্রী, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নির্যাতন এবং গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ (Aynaghar)-এর প্রতীকী অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

নিচতলা: শাসনব্যবস্থার নির্মমতা ও দুর্নীতির দলিল (Gono Bhaban Floor Plans and Evidence of Corruption)

দোতলা মূল জাদুঘর ভবনের নিচতলায় স্থান পেয়েছে বিগত সরকারের গুম, খুন ও নির্যাতনের ভয়াবহ ইতিহাস।

  • গ্লোব টিভি ও কল রুম: উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশের পরই বড় কক্ষে রাখা কাচের গ্লোব টিভিতে ভেসে উঠছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও। ‘কল রুম’ (Call Room)-এর গণরোষের ভাঙচুর চিহ্নিত মেঝে অবিকৃত রাখতে বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যার ওপর দিয়ে দর্শনার্থীরা হাঁটতে পারবেন।
  • নির্যাতনের যন্ত্রপাতি ও নথি: আয়নাঘরে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, চাবুক, বৈদ্যুতিক চেয়ারসহ নানা নির্যাতনের সরঞ্জাম রাখা রয়েছে। এছাড়া ক্রসফায়ার, প্লট বরাদ্দ ও আর্থিক লুটপাটের হাজারো প্রমাণের গোপন নথিপত্র এবং বহুল আলোচিত লাল টেলিফোনও দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন:

দোতলা: আন্দোলন, শহীদের স্মৃতি ও ইমার্সিব প্রজেক্ট (Martyrs Personal Belongings & Immersive Project)

জাদুঘরের দোতলাটি সাজানো হয়েছে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও শহীদদের স্মারক দিয়ে।

  • শেখ হাসিনার শয়নকক্ষে শহীদের রক্তমাখা শার্ট: শেখ হাসিনার সাবেক শয়নকক্ষের ভাঙচুর হওয়া বিছানায় পেতে রাখা রয়েছে শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট।
  • ইমার্সিভ প্রজেক্ট (360 Degree Immersive Project Room): দোতলার বিশেষ এই কক্ষে ১০টি ডিজিটাল প্রজেক্টর ও ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্রিনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলো এমনভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে দর্শনার্থীদের মনে হবে তারা সরাসরি আন্দোলনের ভেতরেই অবস্থান করছেন। এছাড়া শহীদদের বই-খাতা, পোশাক এবং ৫০০-এর বেশি স্মৃতিচিহ্ন এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সময়সূচি, টিকিট ও পরিদর্শনের নিয়মাবলী (July Museum Ticket Price & Visiting Time)

দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা ও স্থান সংকুলানের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

  • পরিদর্শনের ৩টি শিফট: বেলা ১১টা থেকে ১টা, বেলা ১টা থেকে ৩টা এবং শেষ পর্ব বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। (প্রতি শিফটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন প্রবেশ করতে পারবেন)।
  • টিকিটের মূল্য: বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা। সরাসরি জাদুঘরের কাউন্টার কিংবা ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতি জাদুঘর’-এর ওয়েবসাইট (july36.gov.bd) থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে।

উল্লেখ্য, মূল ভবন দেখা শেষে মাঠে ঘোরাঘুরি, পুকুরপাড় বা ক্যাফেটেরিয়ায় সময় কাটানোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

আরও পড়ুন:

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত: প্রতীকী কবর, ভাস্কর্য ও শেখ হাসিনার শয়নকক্ষে যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা

একনজরে সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনী, ইমার্সিভ রুম, টিকিটের মূল্য ও দর্শনের সময়সূচি

বিষয় / আকর্ষণ ক্যাটাগরি বিস্তারিত তথ্য ও প্রদর্শনী নির্দেশিকা

প্রবেশপথ ও জুলাই মেমোরিয়াল
(Entrance & July Memorial)

জুলাই মেমোরিয়াল: সাদা মার্বেল পাথরে প্রায় ৪,০০০ শহীদের নাম উৎকীর্ণ এবং সামনে প্রতীকী কবর।

অন্যান্য ভাস্কর্য: রিকশায় লাশ, সাঁজোয়া যান, আয়নাঘরের প্রতিকৃতি, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের স্মারক।

ভবনের নিচতলা (গোপন নথি ও কাচ)
(Ground Floor Displays)

গ্লোব টিভি ও কাচের মেঝে: ঐতিহাসিক 'কল রুম'-এর ভাঙচুর অবিকৃত রাখতে কাচ দিয়ে ঢাকা মেঝে।

নির্যাতনের সরঞ্জাম: আয়নাঘরের ইলেকট্রিক শক ও নির্যাতনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, গোপন নথি এবং লাল টেলিফোন।

ভবনের দোতলা ও শয়নকক্ষ
(2nd Floor & Immersive Room)

হাসিনার শয়নকক্ষ: ভাঙচুর হওয়া বিছানায় শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা জামা-কাপড় রাখা।

ইমার্সিভ প্রজেক্ট: ৩৬০ ডিগ্রি ১০টি প্রজেক্টরে জুলাই আন্দোলনের জীবন্ত ৩ডি অভিজ্ঞতা।

সময়সূচি ও টিকিটের তথ্য
(Schedule & Ticket Price)

সময়সূচি: বেলা ১১টা-১টা, ১টা-৩টা এবং ৩টা-সন্ধ্যা ৬টা (প্রতি শিফটে ৩০০ জন)।

টিকিটের মূল্য: বড়দের জন্য ৫০ টাকা, শিশুদের ২০ টাকা (অনলাইন ও কাউন্টার থেকে সংগ্রহযোগ্য)।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (July Uprising Memorial Museum BD), গণভবন জুলাই জাদুঘর (Gono Bhaban July 36 Museum), জুলাই স্মৃতি জাদুঘর টিকিট কাটার নিয়ম (July Museum online ticket booking), জুলাই জাদুঘর খোলার সময়সূচি (July Memorial Museum visiting hours and schedule), গণভবন আয়নাঘর ও ভাস্কর্য (Gono Bhaban Aynaghar and July uprising sculptures)


এসআর