আগামীকাল চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে নানা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা | ছবি: এখন টিভি
0

আগামীকাল (রোববার, ৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারকে ঘর উপহার, গভীর সমুদ্র বন্দর পরিদর্শন ও বাঁশখালী, হাটহাজারিতে জনসভায় অংশ নিবেন তিনি। এছাড়া সাক্ষাৎ করবেন হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গেও।

গেলো মাসে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ডুবে যায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা। বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, সর্বস্ব হারান অনেকে।

বন্যায় সব হারানোদের একজন বাঁশখালীর শাহীনুর বেগম। স্বামীহারা এ নারী চার সন্তান নিয়ে এতদিন ঠাঁই নিয়েছিলেন অন্যের ঘরে। সরকারি অনুদানে নতুন ঘর উঠছে তার ভিটায়। অসহায় এ নারীর মতোই ১৩০টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করছেন প্রধানমন্ত্রী। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করতে দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিকরা।

ছোট হলেও এ ঘর অনেকটা স্বপ্নের মতো তাদের কাছে।

শাহীনুর বেগম বলেন, ‘বন্যায় তো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হইছে। সবকিছু চলে গেছে। ভেঙেচুড়ে নিচে পড়ে গেছে। এখন আস্তে আস্তে ঠিক করছে আরকি। আমরা অন্য ঘরে ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা ঘর দিছে, আমি অনেক ধন্যবাদ, খুশি হইছি।’

আরও পড়ুন:

ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আর ঘরের কেন (কোন) প্রধানমন্ত্রী আইয়ে। অহদিন আর সুভাগ্য আয়। আল্লাহর হাছে জিয়েন চাই, নামাজ পড়ি। ওদে আর প্রধানমন্ত্রী আর ফিক্কে (দিকে) ফিরি চইখ। আর কেউ ন চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার দিচ্ছে। ওটাতে আমরা অনেক খুশি হচ্ছি। যে আমাদের গ্রামে আসছে, এজন্য আমরা অনেক আনন্দ। কারণ উনি একজন অনেক বড় মানুষ যে উনি আসছে। এটার জন্য আমরা অনেক খুশি হচ্ছি।’

এ সফরে বাঁশখালী ও হাটহাজারিতে দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও চলছে মঞ্চ, সড়ক নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরী ও দুই সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি হোটেলে সাংগঠনিক সভাও করবেন তিনি। যেখানে দলীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তাই সাংগঠনিকভাবেও এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সবাই।

আরও পড়ুন:

পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এবার উনি যেটা শুরু করেছেন প্রতিটি বিভাগেই, তার ধারাবাহিকতায় উনি চট্টগ্রামে এসেছেন। চট্টগ্রামের তিন জেলা- চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর এবং দক্ষিণ। একেবারে উপজেলা পর্যন্ত নেতাদের সঙ্গে, বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে উনি ওপেন হাউস মতবিনিময় করবেন। আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় এটি অত্যন্ত বিরল একটি পদক্ষেপ।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সব বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে এই প্রোগ্রামটাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে করা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বন্যাদের কাছে ছুটে আসতেছেন, আমরাও আমাদের বন্যাদের পাশে থেকে এই অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে করতে যাচ্ছি।’

রোববার সকালে মহেশখালী, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে ফটিকছড়িতে হেফাজত আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও হাটহাজারি মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন তিনি।

এসএস