অবশেষে খুলল ওসমানী উদ্যান, প্রবেশ ফি ও পার্কের সুযোগ-সুবিধা একনজরে

ওসমানী উদ্যান
ওসমানী উদ্যান | ছবি : সংগৃহীত
0

দীর্ঘ ৯ বছর পর সংস্কার কাজ শেষে অবশেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান (Osmani Uddan Gulistan Dhaka)। গুলিস্তানে ডিএসসিসি প্রধান কার্যালয় নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ২১ দশমিক ৮৫ একর আয়তনের এই পার্কটি মঙ্গলবার সকাল থেকে সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন(Osmani Uddan Dhaka Reopened with Entry Fee Update)।

তবে দীর্ঘদিন পর উদ্যানটি খুললেও প্রবেশপথে জনপ্রতি ১০ টাকা টিকিটের ব্যবস্থা করায় নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে (Osmani Uddan entry ticket fee controversy BD)।

আরও পড়ুন:

প্রবেশমূল্য চালুর কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য (Reasons for Osmani Uddan Entry Fee DSCC)

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্যানের সৌন্দর্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে (DSCC park maintenance and entry fee policy):

  • পরিবেশ রক্ষা: উদ্যানের আশপাশের হকার ও অসচেতন মানুষের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে পার্ক অপরিচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ: উদ্যানটি প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অন্তত ১৫-১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখতে হয়।
  • ইজারার পূর্ববর্তী ব্যবস্থা: পার্কের ভেতরে অবস্থিত জাদুঘর, জিমনেসিয়াম ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা এখনও চালু না হওয়ায়, কোনো অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার আগপর্যন্ত সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন:

দর্শনার্থী ও নগর-পরিকল্পনাবিদদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ (Public Reaction and Urban Planners View on Osmani Uddan)

পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকিট কাটতে বাধ্য করায় সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা একে জনস্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছেন:

  • দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন উদ্যানটি বন্ধ থাকার পর চালু হলেও গেটেই টিকিটের মুখোমুখি হওয়ায় অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তাঁদের মতে, বিনোদনের উন্মুক্ত স্থানে ফি নেওয়ার নিয়ম নগরবাসীর জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়।
  • নগর-পরিকল্পনাবিদদের মন্তব্য: বিশিষ্ট নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান একে ‘জনগণের সঙ্গে প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন (Urban planner Adil Muhammad Khan on Osmani Uddan entry fee)। তাঁর মতে, পার্ক বা খেলার মাঠ নির্মাণ ও সংরক্ষণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব; সেখানে ফি আদায় করলে নিয়মিত হাঁটতে যাওয়া সাধারণ মানুষ নিরুৎসাহিত হবেন।

আরও পড়ুন:

উদ্যানে সবুজ কমে যাওয়ার চিত্র ও কংক্রিটের আধিক্য (Loss of Greenery and Concrete Structures in Osmani Uddan)

‘ঢাকার ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত ওসমানী উদ্যানে অতীতে প্রচুর গাছপালা থাকলেও বর্তমান চিত্র কিছুটা ভিন্ন:

  • গাছ কাটা ও পরিবেশ আন্দোলন: সংস্কার কাজের নামে অতীতে বহু গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে পরিবেশবাদীরা ‘ওসমানী উদ্যানের ১১ হাজার গাছ রক্ষা আন্দোলন’ গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে পার্কটি অনেকটাই কংক্রিটের রূপ নিয়েছে।
  • জলাশয়ের বর্তমান অবস্থা: সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতর থাকা দুটি জলাশয়ের একটি সম্পূর্ণ পানিহীন এবং অন্যটিতে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বোতল ভাসছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ফেলে যাওয়া নির্মাণসামগ্রীও এখনো ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ ৯ বছরের প্রকল্প ও ব্যয় বিবরণী (Osmani Uddan Renovation Project Cost and Timeline)

দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে উদ্যানের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়েছে:

  • মূল প্রকল্প: ২০১৭ সালে প্রায় ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘গোস্বা নিবারণী পার্ক’ নামে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, যা ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর কাজে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়।
  • জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ সংযোজন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ ধাতুর ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও বিশেষ ফটক নির্মাণ করা হয়।
  • সর্বমোট ব্যয়: গত ৯ বছরে বিভিন্ন দফায় এই উদ্যানের পেছনে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে (Total cost of Osmani Uddan renovation project BD)। তবে পার্কের ভেতরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম, পার্কিং ও দোকানপাট এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি।

আরও পড়ুন:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ (90 Feet July Smriti Stambha at Osmani Uddan)

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাতীয় ইতিহাস ফুটিয়ে তুলতে উদ্যানের ভেতরে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ (July uprising martyrs memorial structure BD):

  • ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই: স্টিলের তৈরি ৯০ ফুটের এই স্মারকের গায়ে লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে।
  • ইতিহাসের রিলিফ ভাস্কর্য: স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভিতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু বিশাল রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
  • ঐতিহাসিক সংগ্রামের রূপরেখা: এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের ধারাবাহিক মুক্তির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

আধুনিকায়নে ওসমানী উদ্যানের নতুন সংযোজন (Modern Amenities and Facilities in Osmani Uddan)

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব নাগরিকে রূপ দিতে বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে:

  • জলাশয় সংস্কার ও নতুন লেক: পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নতুন পাঁচটি জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে।
  • ওয়াকওয়ে ও পথসংযোগ: উদ্যানে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ (Walkway), দুই স্তরে সাজানো দ্রুত চলাচলের বিশেষ উঁচু পথ (সড়ক থেকে ২ মিটার উঁচুতে অবস্থিত), আধুনিক ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, কার পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট তৈরি করা হয়েছে।
  • বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:







ওসমানী উদ্যান পুনরায় উন্মুক্তকরণ ও টিকিট ফি সংক্রান্ত তথ্যাবলী

একনজরে: অবস্থান, প্রবেশমূল্য, প্রকল্প সময়সীমা, মোট ব্যয় ও কর্তৃপক্ষের যুক্তি

খাত / বিষয়

নির্ধারিত তথ্য ও সিদ্ধান্ত

বিবরণ ও শর্তাবলী

অবস্থান ও আয়তন

গুলিস্তান, ঢাকা (২১.৮৫ একর)

ডিএসসিসি নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত

প্রবেশ ফি (টিকিট মূল্য)

জনপ্রতি ১০ টাকা

পার্কের পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যয় মেটাতে ডিএসসিসি কর্তৃক ধার্য

প্রকল্প সময়কাল

৯ বছর (২০১৭ হতে ২০২৬)

২ বছরের প্রকল্প সম্পন্ন করতে কার্যাদেশ বাতিল ও নতুন ঠিকাদার নিয়োগে বিলম্ব

মোট উন্নয়ন ব্যয়

প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা

মূল প্রকল্প ১০৮ কোটি টাকা এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও গেট নির্মাণে ৩৯ কোটি টাকা

নির্মিত ও অসম্পূর্ণ স্থাপনা

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য স্থাপনা

৯০ ফুট ব্রোঞ্জ স্মৃতিস্তম্ভ প্রস্তুত; তবে জাদুঘর, জিমনেসিয়াম ও দোকান চালু হয়নি

আরও পড়ুন:

ওসমানী উদ্যান খোলা হয়েছে কিনা (Osmani Uddan reopened Dhaka update), ওসমানী উদ্যানের প্রবেশ ফি ১০ টাকা (Osmani Uddan entry fee 10 taka BD), গুলিস্তান ওসমানী উদ্যান কোথায় অবস্থিত (Osmani Uddan location Gulistan Dhaka), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পার্ক ফি (DSCC park entry ticket policy), ওসমানী উদ্যান সংস্কার প্রকল্প খরচ (Osmani Uddan renovation project cost and details), জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ওসমানী উদ্যান (July Smriti Stambha Osmani Uddan Dhaka), দীর্ঘ ৯ বছর পর ওসমানী উদ্যান চালু (Osmani Uddan reopened after 9 years), ঢাকার পার্কের প্রবেশ মূল্য নিয়ম (Dhaka parks entry ticket rules and news), ওসমানী উদ্যানের বর্তমান অবস্থা (Osmani Uddan present condition and facilities)

এসআর