দেশের আকাশে রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হবে।
আরও পড়ুন:
‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ ও নামকরণ (Meaning of Fateha-i-Yazdaham)
- ফারসি শব্দের উৎপত্তি (Persian Word Meaning): ‘ইয়াজদাহম’ (Yazdaham) একটি ফারসি শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘এগারো’ (Eleven)।
- নামকরণের কারণ: হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তারিখে কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) ইন্তেকাল করেন। রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনে তার স্মরণে ঈসালে সাওয়াব ও দোয়া করা হয় বলেই এই দিনটিকে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ (Fateha-i-Yazdaham Meaning) বলা হয়।
বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (Biography of Abdul Qadir Gilani)
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর, যখন মুসলিম সমাজ বিভ্রান্তি ও বিপথগামিতার মুখোমুখি, তখন ইসলামের নতুন আলো নিয়ে আবির্ভূত হন বড় পীর:
- জন্ম ও বংশ পরিচয় (Birth & Family Background): ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে (Gilan, Iran) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা।
- আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ (Spiritual Knowledge & Sufism): তিনি তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র বাগদাদে (Baghdad) পাড়ি জমান এবং মহান পীর হজরত আবু সাঈদ মাখরুমির (রহঃ)-এর নিকট সুফিবাদ ও মারেফাতের পরম জ্ঞান লাভ করে খেলাফত প্রাপ্ত হন।
- ইসলামের পুনর্জীবন (Revival of Islam): তিনি পথহারা মানুষকে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর (Quran and Sunnah) পথে ফিরিয়ে এনে পীরদের শিরোমণি হিসেবে সর্বজনবিদিত হন।
আরও পড়ুন:
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালনের বিধান ও শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি (Islamic View on Observing Fateha-i-Yazdaham)
ইসলামের মহান এই আধ্যাত্মিক সাধকের অবদান চিরস্মরণীয় হলেও তার ওফাত দিবস পালনের ক্ষেত্রে আলিমদের গঠনমূলক মতবাদ রয়েছে:
- আলেমদের মতামত (Scholarly Views on Observance): উলামায়ে কেরাম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটা করে নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠানসর্বস্ব দিবস পালন বা আলোকসজ্জা করার মতো বিষয়টি ইসলাম সমর্থন করে না।
- যেভাবে স্মরণ করা উচিত: এই দিনে হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-এর আত্মার মাগফিরাত ও শান্তির জন্য দোয়া-মুনাজাত, দান-ছদকা এবং তার জীবন ও কর্ম নিয়ে ইসলামি আলোচনা সভার আয়োজন করা যেতে পারে।
- সরকারি উদ্যোগ (Govt Observance & Islamic Foundation): প্রতি বছরই এই উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (Islamic Foundation Bangladesh) পক্ষ থেকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম এবং বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর-FAQ
প্রশ্ন: ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (Fateha-i-Yazdaham) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ ‘এগারো’। হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-এর ওফাত দিবস। এই ১১তম দিনে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করা হয় বলে একে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলা হয়।
প্রশ্ন: ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কেন উদযাপিত হয়?
উত্তর: ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহান সংস্কারক ও পীরানে পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-এর জীবন, কর্ম, ইসলামে অবদান ও শিক্ষা স্মরণে এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় (ঈসালে সাওয়াব) এই দিনটি উদযাপিত বা পালন করা হয়।
প্রশ্ন: বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি ছিলেন হিজরি পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকের বিশ্ববিখ্যাত সুফি সাধক, প্রখ্যাত আলেম এবং কাদেরিয়া সুফি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা। মহানবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর যখন মানুষ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছিল, তখন তিনি বাগদাদ থেকে বিশুদ্ধ ইসলামের নতুন দাওয়াত ও সংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করেন।
প্রশ্ন: হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-এর জন্ম ও মৃত্যু কত হিজরিতে?
উত্তর: তিনি ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি তারিখে ইরাকের বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
প্রশ্ন: ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালনের সঠিক ইসলামি বা শরয়ী বিধান কী?
উত্তর: বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে ঘটা করে উৎসব করা, আলোকসজ্জা বা অনুষ্ঠানসর্বস্ব কোনো কিছু করা ইসলামে স্বীকৃত নয়। তবে এ দিনে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মুনাজাত, দান-ছদকা এবং তাঁর জীবনী আলোচনা করা নিঃসংকোচে একটি সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন: ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বাংলাদেশে কোনো সরকারি ছুটি থাকে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন এবং প্রতি বছর এই উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী আদেশে ঐচ্ছিক বা সাধারণ ছুটি বহাল থাকে।
প্রশ্ন: রবিউস সানি মাসের সঙ্গে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের সম্পর্ক কী?
উত্তর: হিজরি বর্ষপঞ্জির চতুর্থ মাস হলো রবিউস সানি। এই মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ১১ রবিউস সানি তারিখে নির্ধারিত হয় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
প্রশ্ন: ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমে কী ধরনের আমল করা উচিত?
উত্তর: এই দিনে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ নেই। তবে সাধারণ নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দরুদ পাঠ, গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং বড় পীরের আত্মাত্যাগের জীবনী নিয়ে আলোচনা করা উত্তম।
প্রশ্ন: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ উপলক্ষে কী আয়োজন করা হয়?
উত্তর: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
প্রশ্ন: হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)-কে 'গাউসুল আজম' বা 'বড় পীর' বলা হয় কেন?
উত্তর: 'গাউসুল আজম' শব্দের অর্থ সর্বোচ্চ উদ্ধারকারী বা পরম সাহায্যকারী (আল্লাহর সুফি সাধকদের প্রধান) এবং 'বড় পীর' শব্দের অর্থ পীরদের প্রধান। আধ্যাত্মিক সাধনায় সর্বোচ্চ উৎকর্ষ এবং পথহারা কোটি মানুষকে ইসলামের সঠিক পথ দেখানোর কারণে তাঁকে ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পরম শ্রদ্ধায় 'বড় পীর' বলা হয়।
আরও পড়ুন:





