এর আগে চার মেয়াদে সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার ইতিহাস গড়েছিলেন প্রয়াত সিলভিও বেরলুসকোনি। তবে কোনো একক মেয়াদে টানা ১ হাজার ৪১২ দিন ক্ষমতায় থাকার যে রেকর্ড বেরলুসকোনির ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে গেল মেলোনির কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি। ২০২২ সালের অক্টোবরে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন মেলোনি।
দলটির তরুণ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে উঠে আসায় কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা শর্টকাট ছাড়া লড়াই করেই তাকে এ অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে।
অতীতে বেনিটো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কারণে ইতালিতে ডানপন্থি রাজনীতি নিয়ে যে ভীতি ছিল, তা থেকে দলকে দূরে রাখার ঘোষণাও আগেই দিয়েছিলেন মেলোনি।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, সরকারের মেয়াদকাল দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মাপা যায় না।
তিনি বলেন, মেলোনি সরকারের দীর্ঘদিন টিকে থাকার পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনি আইন একটি বড় ভূমিকা রেখেছে, যার সুবাদে ডানপন্থি জোট সহজেই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এছাড়া সরকারের টিকে থাকার স্বার্থে দলটি তাদের অনেক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।
অন্যদিকে বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরো ইনিয়াজির মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এই স্থবিরতা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সরকারি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধের আইন প্রণয়ন করায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে রয়েছে মেলোনি প্রশাসন।





