যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে পৌঁছালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার সঙ্গে ছিলেন তাদের স্ত্রী। পরে, হোয়াইট হাউজে চীনা প্রেসিডেন্টের সম্মানে ট্রাম্পের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শি জিনপিং। বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ অবশ্যই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। দুইদেশের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এমনকি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আহ্বানও জানান শি।
পরে, ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন শি জিনপিং। এসময়, তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
পরে, শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজন করা হয় এক জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন অ্যাপলের টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা।
রাষ্ট্রীয় এ নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উপহার দেন ঈগলের মূর্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও জোর দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘দুই দেশের নেতা হিসেবে আমরা ভিন্ন ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক অটুট। কেন না যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন সবসময়ই পণ্য, জ্ঞান, রীতিনীতি এবং ধারণার আদান-প্রদান করেছে। আর এটাই দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।’
অন্যদিকে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল পরাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। দুই দেশের প্রতিযোগিতা যেন স্বাস্থ্যকর হয়, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
শি জিন পিং আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আন্তরিক ও গভীর আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে বোঝাপড়ায়ও এসেছি। আর এর মধ্য দিয়ে চীন-মার্কিন সম্পর্কে কৌশলগতভাবে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।’
এদিকে, হোয়াইট হাউসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে মিছিল করেছেন হাজার হাজার তিব্বতপন্থী বিক্ষোভকারী। এসময়, চীনকে তিব্বত ছেড়ে যাওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।





