পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শোয়েব আহমেদ আহত হয়েছেন। এদিকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে হা-মীম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়া হয়েছে।
শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলেও নিশ্চিন্তপুর এলাকার নিউএজ নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালনের পর তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে শ্রমিকেরা আশপাশের বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অনন্ত, টাউজার লাইন, হনরোল, আল-মুসলিম, শারমিন গ্রুপ, ডেকো গ্রুপ ও বেঙ্গল গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা হা-মীম গ্রুপের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার শোয়েব আহমেদ।
এদিকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে নরসিংহপুর নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে হা-মীম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা এ আগুন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন করে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।





