মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দুই দেশের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, গত শনিবার দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ হয়েছে। এ সময় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি ও যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে ট্রাম্প চান, সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
অ্যাক্সিওসকে ইসরাইলি কর্মকর্তা ফোনালাপটিকে 'উত্তপ্ত বা টানাপোড়েনপূর্ণ' বলে বর্ণনা করেছে, অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তা ‘সরাসরি’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে দুটি পথে এগিয়েছে। একদিকে দেশটির বিরুদ্ধে বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে দেশটিতে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে না। কারণ, ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এর পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীরাও আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরানে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এ অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।





