ভোলার খেয়াঘাট একসময় ছিলো জেলার প্রধান লঞ্চ টার্মিনাল। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে মেঘনা নদীর তীরে ইলিশা ঘাটে চালু করা হয় নতুন লঞ্চ টার্মিনাল।
ইলিশা ঘাটের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২২ সালে বিআইডব্লিউটিএ এটিকে নদী বন্দর ঘোষণা করে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়। কিন্তু ঘোষণার চার বছর পরও হয়নি দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন।
বর্তমানে জোড়াতালি দিয়েই চলছে ঘাটের কার্যক্রম। নেই পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি, আধুনিক পন্টুন কিংবা সুষ্ঠু পার্কিং ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় সংযোগ সড়ক। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
যাত্রীরা জানান, ঘাটে কোনো মানে মহিলাদের ওয়াশরুম নেই। তাছাড়া এ ঘাটের যাত্রীরা আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
যাত্রী চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বিকল্প কয়েকটি বিচ্ছিন্ন পল্টুন। এতে লঞ্চ ভেড়াতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
লঞ্চের এক কর্মচারী বলেন, ‘যাত্রীদের অনেক হয়রানি হয়। লঞ্চ বেল্লি পল্টুন, পল্টুন চইট্টা যায়। আবার পল্টুন চইট্টা গেলে যাত্রীরা পল্টুন বান্ধার জন্য অপেক্ষা করে। এই অনেক ত্রুটিপূর্ণ আরকি।’
আর পর্যাপ্ত পন্টুন না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান ঘাট ইজারাদাররাও। ঘাট ইজারাদার বলেন, ‘স্থায়ী একটা পল্টুন তৈরি করে তাদের সুব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়, এটা আমাদের সরকারের কাছে দাবি।’
লঞ্চঘাটে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও এখনো গড়ে ওঠেনি একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক নদী বন্দর। স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত শুরু হোক বন্দরের বাস্তব উন্নয়ন কাজ।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ বলছে, আধুনিক নদী বন্দর নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুতই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ভোলা নদী বন্দর বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘জমি একোয়ার করার প্রসেস চলছে। পরবর্তীতে সেকেন্ড ফেজে আরো ১০০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি পার্কিং ইয়াড করার জন্য এটার প্রসেস চলছে। আমরা আশা করি যে জমি যদি একোয়ার করা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়, তাহলে কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
সম্প্রতি ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শনে এসে দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘টার্মিনালটির আধুনিকীকরণ সেটি এখন সময়ের দাবি, জনগণেরও দাবি। নিশ্চয়ই আমরা সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে ভবিষ্যতে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব।’
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে আধুনিক নদী বন্দর এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। তাই দ্রুত যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করার আহ্বান স্থানীয়দের।
ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে প্রতিদিন প্রায় ২০টি লঞ্চ ও ৬টি ফেরিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ চলাচল করে। ঈদ-পার্বণে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।





