দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। গত তিন বছরে গড়ে ১১ শতাংশ হারে বেড়েছে পেঁয়াজ উৎপাদন। উৎপাদনের স্বাবলম্বী হয়েও অসময়ে হুট করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গেল ১০ দিনে পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টন, পরের বছর ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা থাকলেও, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি কম তাই পেঁয়াজের বাজারটা একটু বেশি। দেশের মধ্যে অনেক বৃষ্টি, যার কারণে পেঁয়াজ আমদানি তেমন হচ্ছে না, যার কারণে বাজারটাও বাড়তি।
দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজ আবাদের জমির পরিমাণও বাড়ছে। ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আবাদের জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর। এছাড়াও উৎপাদনে প্রণোদনা দিতে ৮ হাজার কৃষককে বীজ, সার, সংরক্ষণ উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করেছে সরকার। তারপরও লোকসান হচ্ছে বলে দাবি অনেক কৃষকের।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ এখন গ্রামে পেঁয়াজ একটু কম। তাই পেঁয়াজের বাজার আজকে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা চলছে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর এর তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ লাখ ৫ হাজার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। মূলত অক্টোবর নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো। তবে এবার ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে দাবি তাদের।
পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ায় আমদানি ব্যয় বাবদ বিপুল ডলার সাশ্রয় হচ্ছে দেশের। তারপরও প্রতি বছর একটা সময় পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তাই উৎপাদন-স্থল ও সংরক্ষণাগারগুলোতে সরকারের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের।





