২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনায় জেগে ওঠা জাগলার চরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৬ জন। এরপর থেকে চরগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎকণ্ঠা। গত একমাস ধরে নতুন জেগে ওঠা ‘চর আতাউরে’ চলছে অবৈধ দখলের চেষ্টা। স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়া উপজেলার ‘খোকন’, ‘হানিফ’ ও ‘ভুট্টু’ নামের তিনজনের সমঝোতায় চলছে এ দখল।
স্থানীয়রা জানান, এখানে ধান চাষ হয় না। ধানের কিছু বীজ ছিটিয়ে দিয়ে রাখে। পড়ে তাদের কাছে চাঁদা আদায় করে। স্থানীয়দের সেখানে কাজ করতে দেয়া হয় না। তাদের গরু মহিষ বেঁধে রাখে।
স্থানীয়রা বলছেন, চর দখলের প্রথম ধাপে ধান চাষের নামে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এরপরই তা স্থায়ীভাবে দখল করা হয়।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা আরও জানান, গরু মহিষ বেঁধে রাখা হয়। তাদের ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় গরু ফিরে পেতে।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার জটিলতার কারণে চর আতাউরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা কঠিন। চর আতাউরে অবৈধ দখলদারদের দখল বন্ধের পাশাপাশি চরটিকে সরকারিভাবে গোচারণ ভূমি নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ খাত সমৃদ্ধ হতে পারে।
চর সরকারি খাস জমি হলেও আইন অমান্য করে যে যেভাবে পারছে দখলের চেষ্টা করছে। তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন জেগে ওঠা চরগুলো সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বন্দোবস্ত দেয়ার যে বিধান রয়েছে, সেটি যেন বাস্তবায়ন করা হয় সে লক্ষ্যে আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করব। উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।’
নতুন করে জেগে ওঠা চরগুলোকে গোচারণ ভূমিতে রূপান্তর কিংবা স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হলে বন্ধ হতে পারে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।



