লোকসান-ঋণের চাপ কাটিয়ে ফের চালুর পথে ‘জাতীয় জুট মিলস’

বন্ধ আছে ‘জাতীয় জুট মিলস’
বন্ধ আছে ‘জাতীয় জুট মিলস’ | ছবি: এখন টিভি
0

বেসরকারি খাতে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘জাতীয় জুট মিলস’। লোকসান আর ঋণের চাপে বারবার বন্ধ হওয়া পাটকলটি এবার ৩০ বছরের জন্য ইজারা দিচ্ছে সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে মিলটি দ্রুত চালুর উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিলটি চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে।

সিরাজগঞ্জের রায়পুরে ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জমিতে গড়ে ওঠে নর্দান পিপলস জুট মিল। স্বাধীনতার পর মিলটি ‘কওমী জুট মিল’ নামে জাতীয়করণ করা হয়। একসময় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে উৎপাদিত হতো নানা ধরনের পাটজাত পণ্য।

প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা কারখানাটি প্রথম বন্ধ হয় ২০০৭ সালে। ২০১১ সালে 'জাতীয় জুট মিল' নামে পুনরায় চালু করা হলেও ঋণ আর কাঁচামালের সংকটে ২০১৯ সালে আবারও তালা ঝোলে মিলটিতে। পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে ভাড়া দেয়া হলেও বছর না ঘুরতেই বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন।

স্থানীয়রা জানান, একসময় মিলে ৪-৫ হাজার লোক কাজ করেছিলো। বর্তমানে বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেকে বলেন তারা।

মিলটি আবারও চালুর উদ্যোগ নেয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। মিল চালু হলে কেবল সিরাজগঞ্জের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানই হবে তা নয়, আবারও চাঙ্গা হবে এখানকার থমকে যাওয়া অর্থনীতি।

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের এই জাতীয় কাওমি জুট মিল পুনরায় চালু হলে সিরাজগঞ্জের বেকারত্ব দূর হবে, সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’

সম্প্রতি মিল পরিদর্শন করেন সরকারের দুই মন্ত্রী। তারা জানান, সারা দেশের বন্ধ পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের অংশ হিসেবে মিলটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘সময়ের মতো আমরা যুদ্ধ করছি এগুলোকে আবারও জাগানোর জন্য। আমরা যা করবো, সেটা মানুষের জন্য, মঙ্গলের জন্য করবো। একটা চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করবো। দোকান খুলে দিলাম, তারপর দুইদিন পরে শেষ, তারপর দোকান বন্ধ—তা করবো না আমরা। একটা ভালো ব্যবস্থা হয়, যার ফলে সিরাজগঞ্জের লোকজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’

বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলসহ বন্ধ থাকা ৩টি জুট মিল ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা আর কর্মসংস্থান হবে ১১ হাজার ৬২৯ জন মানুষের।

যে কারখানার চাকার শব্দে একসময় সচল ছিলো হাজারো শ্রমিকের পরিবার- দুর্নীতি আর লোকসানের ঘুনপোকা আজ তা স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে বারবার বন্ধ আর চালুর এ টানাপোড়েন পেরিয়ে, নতুন ইজারায় জুট মিলটি কী পারবে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে? সেই পথচেয়ে সিরাজগঞ্জের হাজারো মানুষ।

জেআর