টাঙ্গাইলে হঠাৎ ঝড়ে ফলজ ও সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষতির মুখে চাষিরা

ক্ষতিগ্রস্ত কলাবাগান
ক্ষতিগ্রস্ত কলাবাগান | ছবি: এখন টিভি
0

টাঙ্গাইলের মধুপুরে হঠাৎ ঝড়ে ৮০ হেক্টর কলা-পেঁপে, ফলজ ও সবজির বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা। আজ (বুধবার, ৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ৮০ হেক্টর কলা, পেঁপে, অন্য ফল ও সবজির বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন:

‎কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘দুপুরে হঠাৎ ঝড়ে উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ প্রায় ৮০ হেক্টর জমির কলা-পেঁপে, আনারস-সবজির বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। সন্ধ্যা হওয়ায় সব জায়গায় পরিদর্শন করতে পারিনি। আগামীকাল সকালে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পরিদর্শন করবো।’

এসএস