ইলিশ গভীর পানির মাছ। মূলত এর বেড়ে উঠা ও বসবাস সাগরে। তবে প্রজনন মৌসুমে বড় নদী ও মোহনায় ঝাঁকে ঝাঁকে আসে ডিম ছাড়ার জন্য।
প্রজনন মৌসুম সফল করতে প্রতিবছর ২২ দিন দেশের নদীগুলোতে মাছ ধরা বন্ধ রাখে সরকার। কিন্তু প্রজনন মৌসুম সফল করতে নিয়োজিতদের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু লোকদের কারণে এই অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও সার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন বলেন, ‘মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের জন্য তারা সরাসরি এই কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে জেলেদেরকে পূর্বেই তারা সংবাদ পৌঁছে দেয় যার জন্য তারা সতর্ক হয়ে যায়, মাছ ঠিকই আহরণ করে কিন্তু তারা ধরা পড়ে না, সেই কারণে প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের উচিত এ সকল অসাধু কর্মচারীদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে বাদ দিয়ে সঠিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে তাহলে পরে এটি সফল হওয়া সম্ভব।’
আরও পড়ুন
গত এক বছরে বরিশাল বিভাগে ইলিশের উৎপাদন কমেছে ৬৮ হাজার ১৮৬ টন। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উৎপাদন ছিল তিন লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টন। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টন। নানা কারণে উৎপাদন কমছে বলে জানান মৎস্য বিভাগের মহাপরিচালক।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ‘পলি জমে, তারপরে দূষণ একটি কারণ আছে, মানুষের অসচেতনতায় আপনার জাটকা মাছ ধরে ফেলছে ব্যাপকভাবে, আমরা যদিও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা উপজেলা প্রশাসন এটা জাটকা রক্ষা কর্মসূচির ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি, তারপরে এই বিষয়গুলো আসলে ইলিশের উৎপাদন কমার একটি কারণ।’
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।
বানৌজা কুশিয়ারার অধিনায়ক লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধিসহ অবৈধ জাল উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও মা ইলিশ রক্ষায় গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে স্থানীয় জনসাধারণ, বিশেষ করে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ইলিশের আরোহণ ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টন।





