পাহাড়ে বাড়ছে লটকন চাষ; বদলে যাচ্ছে পতিত জমির চিত্র

লটকন চাষ
লটকন চাষ | ছবি: এখন টিভি
0

শেরপুরের গারো পাহাড়ে দিন দিন বাড়ছে লটকন চাষ। একসময় পতিত ও অনাবাদি পড়ে থাকা পাহাড়ি জমিতে এখন গড়ে ওঠছে লটকনের বাগান। কম পরিচর্যা, ভালো বাজারদর ও লাভজনক হওয়ায় এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নতুন নতুন কৃষক।

সবুজে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড়। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ভূমিতে এখন দেখা মিলছে লটকনের বাগান। প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই হওয়ায় পাহাড়ি এ অঞ্চলে বাড়ছে লটকন চাষের বিস্তার। লাভের আশায় নতুন করে অনেক কৃষক যুক্ত হচ্ছেন এই ফল চাষে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা হামিদুল্লাহ। ২০০৭ সালে নরসিংদীতে চাচার লটকন বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে রোপণ করেন উচ্চ ফলনশীল লটকনের চারা। দীর্ঘ পরিচর্যার পর ২০১৪ সাল থেকে শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে লটকন বিক্রি।

বর্তমানে হামিদুল্লাহর ৬৫ শতক জমিতে রয়েছে ৫১টি লটকন গাছ। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছেই এসেছে ভালো ফলন। গাছ প্রতি উৎপাদন হচ্ছে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত। এ বছর তার বাগান থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার লটকন বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুন

কৃষি উদ্যোক্তা মো. হামিদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা পাইকারি বিক্রি করি, খুচরায় যারা বিক্রি তারা ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করে। আমরা তো ঘর-বাগান বিক্রি করি।’

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। পাহাড়ি উঁচু-নিচু জমি, বসতবাড়ির আশপাশের ছায়াযুক্ত ও পতিত জায়গা লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সব মাটিতেই চাষাবাদ করা যায়। সুনিষ্কাশিত মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি হলো লটকন চাষের জন্য উপযোগী। লটকন চাষে পরিচর্যাটাও অনেক কম লাগে।’

চলতি বছর শেরপুর জেলায় ২১ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও লাভজনক এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের পতিত জমির ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি তৈরি হবে কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতিও।

জেআর