মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তবে পার্টনের প্রচারক জানিয়েছেন, ন্যাশভিলে তিনি শান্তিতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সাময়িকী পিপলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি স্বল্প সময়ের জন্য ক্যানসারে ভুগছিলেন। কয়েক দিন আগে পার্টন ওই সাময়িকীকে জানান, তিনি অসুস্থ থাকলেও কাজ চালিয়ে যেতে চান।
পার্টনের ভাতিজা ব্রায়ান সিভার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘তার উদাহরণ দেখে আমরা বিশ্বাস করতাম যেকোনো কিছুই সম্ভব। এমন কোনো দরজা ছিল না যা তিনি খুলতে পারেননি। আর তিনি যে দরজাগুলো খুলে দিয়েছিলেন, তা ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’
কোট অব মেনি কালারস, জোলিন এবং আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ-এর মতো বিশ্বখ্যাত গানের স্রষ্টা ডলি পার্টন সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রিত নারী সংগীতশিল্পীদের একজন। তার ১০ কোটিরও বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননা পুরস্কারও।
১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে ডলি রেবেকা পার্টনের জন্ম। ১২ ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়া পার্টনের শৈশব ছিল চরম দারিদ্র্যে ভরা। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি প্রথম গান লেখেন এবং আট বছর বয়সে প্রথম গিটার হাতে পান। মাত্র ১১ বছর বয়সে স্থানীয় বেতারে এবং ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে ওপ্য্রি মঞ্চে গান পরিবেশন করে নজর কাড়েন তিনি।
হাইস্কুল শেষ করে ন্যাশভিলে পাড়ি জমানোর পর কান্ট্রি তারকা পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে পার্টনারশিপে তার সংগীতজীবন নতুন গতি পায়। ১৯৬৬ সালে তিনি কার্ল ডিনকে বিয়ে করেন। ডিন সব সময় প্রচারের আড়ালে থাকলেও পার্টনের অনেক বিখ্যাত গানের অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি।
গান লেখার পাশাপাশি অভিনয়েও নাম কুড়িয়েছিলেন পার্টন। ১৯৮০ সালে নাইন টু ফাইভ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় এবং সিনেমার মূল গানের জন্য তিনি অস্কার মনোনয়ন পান। পরে ২০০৬ সালে ট্রাভেলিন থ্রু গানের জন্যও তিনি অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
বিলবোর্ড কান্ট্রি চার্টে ডলি পার্টনের ২৫টি গান এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছেছিল। তিনি জীবনে প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন, যার মধ্যে ৪৫০টির মতো গান তিনি রেকর্ড করেছিলেন। সুর ও কথার জাদুতে নিজের গান অন্য শিল্পীদের কণ্ঠেও তুলে দিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হয়েছিল হুইটনি হিউস্টনের গাওয়া আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ।
সংগীতের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও তার অসামান্য অবদান ছিল। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা গবেষণার জন্য তিনি ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন, যা মডার্নার টিকা তৈরিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে তিনি বড় পরিসরে স্বাক্ষরতা কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
নিজের গান নিয়ে ডলি পার্টন লিখেছিলেন, ‘দিন শেষে আমি আশা করি সবাই আমাকে একজন ভালো গীতিকার হিসেবে মনে রাখবে। গানগুলোই আমার আসল উত্তরাধিকার।’





