নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

পে স্কেল
পে স্কেল | ছবি: এখন টিভি
3

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল (9th National Pay Scale in Bangladesh) চূড়ান্ত করতে আজ (বুধবার, ২৪ জুন) সচিবালয়ে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশেষ সভায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি (government employees salary increment 2026), চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ, আইনি ভেটিং এবং কারিগরি জটিলতা দূরীকরণসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে (9th Pay Scale Secretary Committee Meeting Today: 11th-20th Grade Pay Disparity, 2-Step Phasing & iBAS++ Digital Fixation)।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নিশ্চিত করেছেন যে, আজ সচিব কমিটির নির্ধারিত সভা রয়েছে এবং সেখানে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক নিয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন:

২ ধাপে বাস্তবায়নের দাবি: ১ জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধি? (Basic Salary Hike from July 1)

অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance Bangladesh) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক রূপরেখায় ৩টি ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হলেও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র দাবির মুখে এটি কমিয়ে ২ ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন (9th pay scale implementation in 2 steps) করা যায় কিনা, তা আজ টেবিলে চূড়ান্ত হবে।

যদি ২ ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবটি সবুজ সংকেত পায়, তবে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন স্কেল টেকনিক্যালি কার্যকর হবে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “১ জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বর্ধিত টাকা সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লেগে যেতে পারে।”

আরও পড়ুন:

নিম্ন গ্রেডে বেশি জোর: কর্মকর্তাদের ৪০% বনাম কর্মচারীদের ৬০% ফর্মুলা! (Salary Hike for 11th to 20th Grade)

এবারের পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় চমক থাকছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য। বাজারে তীব্র মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ (pay disparity removal for 11th to 20th grade)-এর বিষয়টি আজকের মিটিংয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খসড়া অনুযায়ী, সরকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রথম ধাপে বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে:

১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা): প্রস্তাবিত মূল বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (কর্মচারী): জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করার জোরালো প্রস্তাব রয়েছে।

এর আগে গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর প্রস্তাবগুলোও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।

আরও পড়ুন:

iBAS++ এর মাধ্যমে ডিজিটাল পে ফিক্সেশন ও আইনি ভেটিং (iBAS++ Digital Pay Fixation & Legal Whetting)

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর লাখ লাখ কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের জটিল হিসাব-নিকাশ সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আজকের বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইবাস++ এর মাধ্যমে নতুন পে ফিক্সেশন (New pay fixation rules via iBAS++) দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে কারিগরি গাইডলাইন তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, পূর্বের চাকরি বিধিমালা সংশোধন ও আইনি জটিলতা এড়াতে আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি ভেটিং (Legal vetting for pay scale gazette) দ্রুত সম্পন্নের তাগিদ দেওয়া হবে।

ভাতা ও বিশেষ সুবিধা সমন্বয় (Government employee allowances and incentives setup): মূল বেতনের পাশাপাশি চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া এবং যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি পাবে (allowance increment for government service) তা আজ চূড়ান্ত করা হবে।

লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজকের সচিব কমিটির পে-স্কেল সভা (Secretary Committee meeting on pay scale) থেকে একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক ঘোষণার অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন:

একনজরে নবম পে-স্কেল: ১ম-৯ম ও ১০ম-২০তম গ্রেডের আনুপাতিক বাস্তবায়ন এবং আইবাস++ ফিক্সেশন রূপরেখা (9th Pay Scale Phase-1: 40% vs 60% Implementation Formula & iBAS++ Fixation at a Glance)



কর্মকর্তা-কর্মচারী ধাপ
(Employee Categories)
সংশ্লিষ্ট গ্রেড সমূহ
(Designated Grades)
১ম ধাপে বাস্তবায়ন হার
(1st Phase Payout %)
আইবাস++ (iBAS++) ডিজিটাল ফিক্সেশন
(Digital Pay Fixation & Timeline)
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
(Class-I Officers)
১ম থেকে ৯module গ্রেড

৪০% কার্যকর

🖥️ স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ফিক্সেশন:

• গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারির পর সরাসরি iBAS++ সফটওয়্যারে নতুন স্কেলের ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে।

টাকা পাওয়ার সময়সীমা:

• নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও কারিগরি যাচাইয়ের কারণে বর্ধিত টাকা অ্যাকাউন্টে আসতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগবে। বকেয়াসহ টাকা একসাথে আইবাস++ এর মাধ্যমে পাস হবে।

নিম্ন আয়ের কর্মচারী
(Staff & Subordinates)
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড

৬০% কার্যকর

মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
(Strategic Goal)

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্য দূরীকরণ: বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সাধারণ কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা বাড়াতে প্রথম ধাপে ৬০% দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আইনি ভেটিং (Legal Vetting)-এর মাধ্যমে জটিলতা সংশোধন করা হচ্ছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সচিব কমিটির আজকের (২৪ জুন) মেগা বৈঠকে এই আনুপাতিক হার (৪০% ও ৬০%) নিয়ে আলোচনা চলছে। এটি প্রস্তাবিত খসড়া রূপরেখা; আজ মিটিং শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন জারির পর চূড়ান্ত শতাংশ ও হিসাব নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন:

নতুন পে স্কেল | পে স্কেল ২০১৫ | নবম পে স্কেল ২০২৬ গেজেট | নবম পে স্কেল ২০২৬ গেজেট | নতুন পে স্কেল ২০২৬ তালিকা


এসআর