বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে এই খাত থেকে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এখন কারখানাগুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক অটোমেশন, স্মার্ট মেশিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তি। এতে উৎপাদনের গতি বাড়ছে, কমছে সময় ও উৎপাদন ব্যয়।
শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা সুতা থেকে কম্পিউটারে মেশিন আধুনিক যে মেশিন আছে, মেশিনে কম্পিউটারে প্রোগ্রাম সেট করে দেই। সেট করার পার্ট অনুসারে বানায়। সেটা আবার মেকআপে তৈরি করে সোয়েটারে রূপান্তরিত হয়।’
অন্য একজন বলেন, ‘এখানে সবকিছু অটোমেটিক মেশিনে কমপ্লিট হয়ে আসে। আমরা শুধু স্যুইংয়ের লেভেল লাগে, ফিনিশিং কমপ্লিট করি।’
তবে প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যথাযথ দক্ষতা উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে ১২ লাখেরও বেশি শ্রমিক বিশেষ করে নারী শ্রমিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অবশ্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি এলেও পোশাক তৈরির প্রতিটি ধাপেই এখনো মানুষের বিকল্প নেই। কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং, কোয়ালিটি চেকিং থেকে শুরু করে প্যাকেজিং—সব ক্ষেত্রেই দক্ষ শ্রমিক অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:
উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অটোমেশন আসছে আপনার যেসব জায়গাগুলো আপনার ক্রিটিক্যাল জোন। যেমন ধরেন নিটিং করতে হবে, যেমন হয়তো ওয়াশ করতে হবে, যেমন একটা মালকে এক্সপোর্ট করার সময় কার্টুন লোড দিতে হবে মাথায় করে, সেটাকে অটোমেশন করে এখন ডিরেক্ট গাড়িতে চলে যাচ্ছে। এই টাইপের আরকি অটোমেশন। ম্যানপাওয়ার কমবে না, বরঞ্চ ম্যানপাওয়ারের স্কিল তৈরি হবে যেটা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আরও মান উন্নয়নের জন্য সুবিধা হবে।’
শিল্প মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তবে অটোমেশনকে চাকরি কমানোর উপায় হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন তারা। একইসঙ্গে শ্রমিকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলেই যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানও হবে আরও টেকসই—এমনটাই মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।





