২০২১ সালের এপ্রিলে এলপিজির দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চালুর পর এই প্রথমবারের মতো পরিবেশক ও খুচরা কমিশন পর্যালোচনার জন্য গণশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে বিইআরসি। চলতি মাসের শুরুতে এলপিজি ব্যবসায়ীরা কমিশন বাড়ানোর লিখিত আবেদন করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
বর্তমান সিলিন্ডারের নির্ধারিত দর বনাম বাস্তব বাজারচিত্র (12kg LPG cylinder market price vs BERC rate)
সরকারিভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা (LPG cylinder price gap in local market)। বিইআরসির হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে সিলিন্ডারের মূল্যকাঠামো নিম্নরূপ:
- কোম্পানির বিক্রয়মূল্য: আমদানিকারক ও বোতলজাতকরণ কোম্পানিগুলো পরিবেশকদের কাছে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ১,৭৪২ টাকায় বিক্রি করবে।
- পরিবেশক পর্যায়: পরিবহন ও বিতরণ খরচ ৫০ টাকা যোগ করে পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১,৭৯২ টাকায় বিক্রি করার কথা।
- গ্রাহক পর্যায়: খুচরা বিক্রেতার নির্ধারিত ৪৫ টাকা কমিশন যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (BERC official 12kg LPG price 1837 BDT)।
তবে বাস্তবে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে বিইআরসি ১,৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সিলিন্ডারপ্রতি আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের নতুন কমিশন প্রস্তাব (LPG distributor and retailer commission hike proposal)
গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের চারজন পরিবেশক বিইআরসির কাছে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান। তাদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো হলো:
- পরিবেশকদের কমিশন: বিদ্যমান ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করতে হবে (LPG distributor commission 150 BDT proposal)।
- খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন: নির্ধারিত ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান কমিশনের টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীদের অজুহাত ও বাজারে সরবরাহের চিত্র (LPG supply crisis and extra charge by companies)
বাজারসংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ পরিবেশক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেই নির্ধারিত ১,৭৪২ টাকার বদলে ১,৮৫০ টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তেজগাঁও এলাকার এক পরিবেশক জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর পরিবেশকদের গুদামে নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা করা হয় না।
নিজস্ব পরিবহনে সিলিন্ডার আনতে অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত দামে সরবরাহ করলেও বেশ কয়েকটি ওমেরা, বিএম, টোটাল ও আইগ্যাসের মতো বড় কোম্পানির বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশকদের কাছেই ২,০০০ থেকে ২,০৮০ টাকা পর্যন্ত দাম রাখছে। ফলে খুচরা বাজারেও অতিরিক্ত মুনাফা যোগ হয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:



