পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে খাতায় লেখা সেই পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড | ছবি: সংগৃহীত
0

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্রে দ্বিতীয়বার লেখার সুযোগ পাওয়া রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে তার কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।

মেহেদী হাসান বলেন, ‘ফলাফল স্থগিত। কোনো রেজাল্টই আসছে না। পাস না ফেল, তা বুঝতে পারছি না।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ জানান, পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে উত্তরপত্রে পুনরায় লেখার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে মেহেদীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আগেই বোর্ডের কম্পিউটার শাখাকে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বাসায় ডেকে পরীক্ষার্থীকে খাতায় লেখালেন পরীক্ষক’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনাটি সামনে আসে। প্রতিবেদনে মেহেদী হাসানকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে উত্তরপত্রে নতুন করে লেখার সুযোগ দেয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

জানা যায়, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে নিজের মোবাইল নম্বর লিখেছিলেন মেহেদী। ওই নম্বরে ফোন করে গত ১৪ আগস্ট তাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক ও পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে তাকে আবার উত্তর লেখার সুযোগ দেয়া হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ওই দিনই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষক সেকেন্দার আলী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে বোর্ডে জমা দিয়েছিলেন। পরে সেসব খাতা জব্দ করা হয়।

খাতা পরীক্ষা করে তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, মেহেদীকে দ্বিতীয়বার উত্তর লেখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। উত্তরপত্রে নম্বর কাটাকাটিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথমবার মূল্যায়নের সময় ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে মেহেদী কোনো নম্বর পাননি। পরে তাকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে ওই দুটি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে লেখানো হয় এবং সেগুলোর জন্য নম্বরও দেয়া হয়।

গত ১৩ অক্টোবর তদন্ত কমিটি বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এছাড়া পরীক্ষক সেকেন্দার আলীকে আজীবনের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরেও (মাউশি) চিঠি পাঠিয়েছে বোর্ড।

বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠি পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় শিক্ষা বোর্ডের প্রশংসা করেছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর বোর্ডের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

জেআর