চিকিৎসকদের মতে, একটু সচেতন হলেই এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচে হেপাটাইটিস ‘এ’ হওয়ার প্রধান কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আরও পড়ুন:
হেপাটাইটিস ‘এ’ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ (Main Causes of Hepatitis A)
১. দূষিত খাবার ও পানি (Contaminated Food and Water): এই ভাইরাস ছড়ানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো অনিরাপদ পানি ও খাবার। অপরিষ্কার পানি পান করা, রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার খাওয়া কিংবা ভালোভাবে না ধুয়ে কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি খেলে এই ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে।
২. অপরিষ্কার পরিবেশ ও ব্যক্তিগত অসচেতনতা (Poor Hygiene and Sanitation): টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে এই জীবাণু ছড়াতে পারে।
৩. অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার প্রস্তুত (Unsanitary Food Preparation): খাবার তৈরি বা পরিবেশনের সাথে যুক্ত ব্যক্তির হাত যদি জীবাণুমুক্ত না থাকে, তবে তার হাত থেকে খাবারের মাধ্যমে অন্য সুস্থ মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটে।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ (Close Contact with Infected Person): হেপাটাইটিস ‘এ’ রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র শেয়ার করলে কিংবা তার অতি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসলে এই রোগ ছড়াতে পারে।
হেপাটাইটিস ‘এ’ এর প্রধান লক্ষণসমূহ (Common Symptoms of Hepatitis A)
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে শরীরে নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে:
- তীব্র জ্বর (High Fever) ও শরীর ম্যাচম্যাচ করা।
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা (Fatigue and Weakness)।
- বমি বমি ভাব (Nausea) বা অনবরত বমি হওয়া।
- খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি বা ক্ষুধামন্দা (Loss of Appetite)।
- পেটের ডান পাশে বা লিভারের অবস্থানে তীব্র পেটব্যথা (Abdominal Pain)।
- চোখ ও প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যাওয়া, যাকে আমরা সাধারণত জন্ডিস (Jaundice) বলে থাকি।
আরও পড়ুন:
হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় (Prevention Methods of Hepatitis A)
এই রোগ থেকে বাঁচতে সবচেয়ে জরুরি হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। চিকিৎসকেরা নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন:
বিশুদ্ধ পানি পান: সর্বদা ফুটানো পানি বা বিশ্বস্ত উৎসের বিশুদ্ধ পানি (Safe Drinking Water) পান করুন।
হাত ধোয়ার অভ্যাস: যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে (Handwashing with Soap)।
বাইরের খাবার বর্জন: রাস্তার ধারের খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার (Street Food) পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।
ফলমূল ও সবজি পরিষ্কার: কাঁচা ফল ও সবজি খাওয়ার আগে তা পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
টিকা গ্রহণ: হেপাটাইটিস ‘এ’ থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পেতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হেপাটাইটিস ‘এ’ ভ্যাকসিন বা টিকা (Hepatitis A Vaccine) গ্রহণ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ‘এ’ সঠিক বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে লিভারের রোগে (Liver Disease) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে, তাই লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একনজরে হেপাটাইটিস ‘এ’ এর গাইডলাইন (Quick Guide: Hepatitis A Quick Fact-Sheet)



