গতকাল (বুধবার, ৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ‘ওমেন লিডারশিপ অ্যান্ড জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং ইন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আভা হোসেন বলেন, ‘নারীদের মনে করা উচিত নয় যে তারা তাদের বয়স, অবস্থান বা পরিস্থিতির কারণে নেতৃত্ব দিতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি অবদান রাখার সক্ষমতা থাকে তবে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত এবং আপনার কণ্ঠস্বর শোনানো উচিত। নেতৃত্বের জন্য সাহস, প্রতিশ্রুতি এবং অন্যদের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রয়োজন।’
এশিয়া-প্যাসিফিক একাডেমি অফ অফথালমোলজির (এপিএও) প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম মহিলা সভাপতি আভা হোসেনের মতে, নেতৃত্ব কেবল একটি পদ থেকে আসে না, এর বিকাশ শুরু হওয়া উচিত পরিবার এবং নিজ নিজ পেশাগত সংগঠনের ভেতর থেকেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত সেমিনার এবং কনফারেন্সে যোগদান করা, নিজেদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং কীভাবে আমরা একটি নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছতে পারি তা নিয়ে ভাবতে হবে।’
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় অপথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশর (ওএসবি) ‘অপথালমোলজি উইমেন সার্কেল’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা এই আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, ওএসবি প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জিন্নু রাইন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. সায়েদুল হক, উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুদ্দিন এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ ও অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর মো. ইকবাল হোসেন।
অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা শহীদ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ চিকিৎসকদের পারস্পরিক যোগাযোগের ভূমিকা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ডেভরেজোনেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী নাজমে সাবিনা চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় ‘জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং’ বা নারী-পুরুষের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ক একটি সেশন পরিচালনা করেন।
ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির বলেন, ‘বাংলাদেশ “গ্লোবাল ভিশন অ্যাওয়ার্ড”-এর জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে, যার ফলে এই খাতে বড় আকারের ফান্ড আসবে এবং চক্ষুসেবা খাতে নতুন গতিসঞ্চার হবে। তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞদের এই নতুন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
ডা. মুনির আহমেদ স্বাস্থ্যসেবায় নারী চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে জানান, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে রয়েছে।
মুনির আহমেদ বলেন, ‘নারী চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক। কিন্তু নেতৃত্বে আমরা নারীদের খুব কম প্রতিনিধিত্বই দেখতে পাই। স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের পদে তাদের উপস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে।’
ডা. মুনিরের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘মেন্টরশিপ’ বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অধ্যাপক মো. সায়েদুল হক এবং অধ্যাপক মো. শাহাবুদ্দিন চক্ষু বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা জানান, এর মাধ্যমেই তারা নেতৃত্বের আসনে পৌঁছাতে পারবেন।





