পারমাণবিক বোমার সমান ক্ষমতা: হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরছে ইরান

নিকোসিয়া সাইপ্রাসে জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের চলাচলের লাইভ মানচিত্র
নিকোসিয়া সাইপ্রাসে জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের চলাচলের লাইভ মানচিত্র | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরছে ইরান। তেহরানের শীর্ষ রাজনীতিক ও রাষ্ট্র–সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ইরানের জন্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গতকাল (শনিবার, ৯ মে) বলেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করছি। সময়সীমা বা আল্টিমেটামের দিকে আমরা নজর দিই না।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সম্ভাব্য সময়সীমার প্রসঙ্গেই তিনি এ কথা বলেন।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবর রাষ্ট্র–সমর্থিত বার্তা সংস্থা মেহরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি এমন এক সক্ষমতা, যা ‘একটি পারমাণবিক বোমার সমতুল্য’। তার ভাষায়, ‘একটি সিদ্ধান্তেই যদি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা যায়, সেটি বিশাল ক্ষমতা।’

মোখবর আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধে যে নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ত্যাগ করা হবে না। আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া বা সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রণালির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টাও চালানো হতে পারে।’

বর্তমান প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় কাজে লাগবে।’ তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও হরমুজ প্রণালিকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় উপমার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এক উপস্থাপক এটিকে ‘উহুদ পাহাড়ের গিরিপথ’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এটি হাতছাড়া করা মানে পরাজয়ের ঝুঁকি নেয়া।’

তবে ইরানি নেতৃত্ব একই সঙ্গে জানাতে চাচ্ছে, প্রণালি বন্ধের হুমকি তাদের দীর্ঘদিনের নীতি হলেও তা অকারণে প্রয়োগ করা হবে না। সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির একটি পুরোনো বক্তব্য পুনঃপ্রচার করে বলা হয়, পারস্য উপসাগর যদি ইরানের জন্য অকার্যকর হয়ে যায়, তবেই অন্যদের জন্যও তা অকার্যকর করা হবে।

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দেখা গেছে। ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে, যদিও গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে।

অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনার বিষয়েও মতভেদ স্পষ্ট। কট্টরপন্থী রাজনীতিকেরা পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় দেয়ার বিরোধিতা করছেন। সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলি খেজরিয়ান বলেন, ইরান ‘কোনো ধরনের পারমাণবিক আলোচনা’ করছে না। তার অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঢাকতেই যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি চীন সফর করেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভূমিকার কারণে তিনি অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির উল্লেখ করে আলোচক দল থেকে ‘ব্যয়বহুল চুক্তির লোকদের’ সরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এএম