স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, আধাসামরিক আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নর্থ কর্ডোফানের বারাহ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মুররাহ এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামলা চারিয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে হামলা চালানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, সামপ্রতিক যুদ্ধের কারণে সুদানে সাধারণ মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই হামলা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলে আসছিলো। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এ দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে কর্ডোফান অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা কর্ডোফান অঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দুই অঞ্চলই তেলক্ষেত্র ও স্বর্ণখনিতে সমৃদ্ধ। এছাড়া বারাহ শহর নিয়েও আরএসএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানায়, গ্রাম ও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এভাবে নাগরিকদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সুদানের সাউথ কর্ডোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট নর্থ বাহিনী এবং ওতোরো গোত্রের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ৬১ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ শিশুও ছিলো।
এছাড়া গত সপ্তাহে মধ্য দেশটির একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
যুদ্ধের ফলে দেশটির বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সুদানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।




