ভারতের টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ; আদালতে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতে গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ (বুধবার, ১৭ জুন) আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে দুবাই ভিত্তিক এই কোম্পানিটি।

আগামী রোববার দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর কয়েক দিন আগেই প্রশ্নপত্র বিতরণে অ্যাপটি ব্যবহৃত হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেলিগ্রাম ব্লক করে দেয়া হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভ। তিনি যুক্তি দেন, এই নিষেধাজ্ঞা লাখ লাখ সাধারণ ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেবে কিন্তু যারা প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী তাদের থামাতে খুব একটা ভূমিকা রাখবে না।

দিল্লি হাইকোর্টে বুধবার কোম্পানিটির আইনজীবীরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। বিচারপতি এটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এর আগে পাভেল দুরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে বলেন, যারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তারা ইতিমধ্যে অন্যান্য অ্যাপে চলে গেছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে টেলিগ্রাম ভারত থেকে কয়েকশো চ্যানেল অপসারণ করেছে যেগুলো ফাঁস হওয়া পরীক্ষার উপাদান ও জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। দুরভ বলেন, ‘টেলিগ্রামকে সাময়িকভাবে হলেও নিষিদ্ধ করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত।’

বিতর্কের সূত্রপাত গত মাসে ভারতের বৃহত্তম মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’–এর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ থেকে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এবং ইতিমধ্যে ডজনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী রোববারের পরীক্ষাটি নির্বিঘ্ন করতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান ও হেলিকপ্টারে করে প্রশ্নপত্র পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ভারতে টেলিগ্রামের ১৫ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। নিট পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, প্রতারক চক্রগুলো সংঘবদ্ধভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, একইভাবে হোয়াটসঅ্যাপ বা ডিসকর্ডের মতো অ্যাপগুলোও ব্যবহৃত হতে পারে, তাহলে কি সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হবে? কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। অনেক শিক্ষার্থীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণের জন্য এই অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

এএম