ভারতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০

ভারতের উত্তর- পূর্বের রাজ্যগুলোতে বন্যা
ভারতের উত্তর- পূর্বের রাজ্যগুলোতে বন্যা | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবল বৃষ্টি-বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৮০। কেবল আসামেই গতকাল (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) একদিনেই প্রাণ গেছে কমপক্ষে ২১ জনের; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় পৌনে ছয় লাখ মানুষ। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা নদীগুলো। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যাওয়ায় খুলে দেয়া হয়েছে সালাল বাঁধের সবগুলো গেট। এদিকে, সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। আর এখনও রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে।

ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি, ঠাণ্ডা বাতাস আর আর্দ্রতাও কমে যাওয়ায় বুধবার দিনটা ভালোভাবেই শুরু হয় দিল্লিবাসীর। যদিও অন্যান্য অঞ্চলে নমনীয় নয়, বরং গভীর ক্ষত ছেড়ে যাচ্ছে বর্ষা।

এ পর্যায়ে বন্যায় সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আসামবাসী। বুধবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হু হু করে বেড়েছে প্রাণহানি; ১২ জেলায় পানিবন্দি প্রায় ছয় লাখ মানুষ। চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। বিপদসীমার ওপরে ব্রহ্মপুত্র, ধানসিঁড়ি, শিবসাগরসহ পাঁচটি নদীতে। রাজ্যজুড়ে জারি ইয়েলো অ্যালার্ট; ভারী বৃষ্টির আভাস অন্তত আরও চারদিন। ৯শ' গ্রামে ৬০ হাজার একর কৃষিজমি পানির নিচে।

দক্ষিণপূর্বের আরেক রাজ্য সিকিমেও ভারী বর্ষণের মধ্যে মঙ্গলবার সুড়ঙ্গে ধসের ঘটনায় বেড়েছে প্রাণহানি। যদিও তিস্তা উপকূলে পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গ্যাস লিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিধ্বংসী বন্যার পর উত্তরের জম্মু-কাশ্মীরে পানি নেমে গেলেও কমেনি বৃষ্টি। টানা চতুর্থ দিনের মতো ভারী বর্ষণ চলতে থাকায় জায়গায় জায়গায় চলছে ভূমিধস। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে বুধবার বন্ধ যান চলাচল। চেনাব নদীতে বিপদসীমা ছাড়িয়েও পানি বাড়তে থাকায় খুলে দেয়া হয়েছে সালাল বাঁধের সবগুলো গেট। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে আরও কয়েকদিন।

গতকালের আকস্মিক বন্যায় আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নতুন টায়ার ও যন্ত্রাংশ নদীতে ভেসে গেছে, তেলে ভরা একটি ড্রাম নষ্ট হয়ে গেছে। সংরক্ষণাগারে পানি চুইয়ে পড়ায় পাঁচ-ছয় হাজার সিমেন্টের বস্তা জমে শক্ত হয়ে গেছে।

মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এই বন্যায় এখানকার বাসিন্দারা ১০ বছর পিছিয়ে গেছে। বন্যায় ছাত্রছাত্রীদের বইপত্র নষ্ট হয়েছে, যেসব দোকানদার দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন- তাদের প্রায় সকলেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখান্ডসহ উত্তরের অন্যান্য রাজ্যেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে। মহারাষ্ট্রের পুনের ঘাট এলাকাগুলোতে জারি রয়েছে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা রেড অ্যালার্ট। মুম্বাই, থানে, রায়গড়সহ কয়েকটি জেলায় চলছে ইয়েলো অ্যালার্ট। তীব্র বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে গুজরাটের বিভিন্ন শহর।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা চলছে ১৫টির বেশি রাজ্যে।

ইএ