দাবানলের প্রভাবে বায়ুদূষণ; বাড়ছে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

দাবানলে পুড়ছে বন, বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে
দাবানলে পুড়ছে বন, বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বজুড়েই চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আর এই তাপপ্রবাহের মাঝেই যেন আগুনে পুড়ছে প্রকৃতি। আর ভয়াবহ এসব দাবানলের ঘন কালো ধোঁয়া ছেয়ে ফেলেছে আকাশ। লাখ লাখ মানুষ শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন বিষাক্ত বায়ু। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধোঁয়া ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্যান্সার, স্ট্রোক, এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকিও।

দাবানলের ধোঁয়া সাধারণ বায়ুদূষণের চেয়ে অনেক বেশি বিষাক্ত। কারণ, আগুনে শুধু গাছপালা পুড়ে না। পুড়ে যায় গাড়ি, বাড়ি, কারখানা। ফলে এই ধোঁয়ায় মিশে যায় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, ধাতু, প্লাস্টিক ও অন্যান্য কৃত্রিম উপাদানের কণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ফুসফুস নয়, দীর্ঘমেয়াদে সারা শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আর এই ধোঁয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে বাতাসে ভাসতে পারে এবং হাজার হাজার মাইল দূরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মেরিল্যান্ডে ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ হাজার ৩৮০ কিলোমিটার দূরের দাবানলের ধোঁয়াও সেখানে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের অসুস্থতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সহজ ভাষায়, একটা জায়গায় আগুন লাগলেও তার বিষক্রিয়া পৌঁছে যাচ্ছে অন্য দেশে। গবেষণা বলছে, এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের হার বাড়ায়।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক কিথ বেইন বলছেন, সুস্থ মানুষের মধ্যেও এর প্রভাবে গলা ব্যথা, অতিরিক্ত কফ, কাশি এবং মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। তবে এর চেয়েও মারাত্মক বিষয় হলো ক্যানসার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। এছাড়া ২০২৬ সালের মার্কিন এক গবেষণায়, দাবানলের ধোঁয়ার সংস্পর্শকে ফুসফুস, কোলোরেক্টাল, স্তন, মূত্রাশয় ও রক্তের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গর্ভবতী মায়েদের জন্য তো এটি আরও ভয়াবহ।

বিষাক্ত এই ধোঁয়ার অল্প পরিমাণ কণাও শরীরে প্রদাহ তৈরি করে। শিশু, বয়স্ক এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগ আছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবানলের সময় এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া যাবে না, বিশেষ করে দৌড়ঝাঁপ বা ভারী কাজ করা যাবে না। তবে মাস্কও শতভাগ নিরাপদ নয়। অবশ্য বাড়িতে থাকলেও দাবানলের দূষিত কণার থাবা থেকে রেহাই পাবে না কেউ-ই।

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। প্রতি বছর আগের বছরের চেয়ে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তাই এখনই সচেতন না হলে অদূর ভবিষ্যতে দাবানলের কারণে সৃষ্ঠ বিষাক্ত ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

এসএইচ