দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নাকি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনীতি জোরদার করা? নাকি বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা? মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কি?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ইঙ্গিতেও এ অঞ্চলের জন্য কোন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যাচ্ছে না। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক অভিজ্ঞ কূটনীতিক, এমনকি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তবে, প্রশ্ন উঠেছে, নানা মতভেদ ও কার্যকর উপায়ের মিশেলে আদৌ আঞ্চলিক সংকটের চিরস্থায়ী সমাধান সম্ভব কিনা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো অঞ্চলে একক দেশের আধিপত্য, প্রক্সি যুদ্ধ আঞ্চলিক মেরুকরণ বাড়ায়। যা স্থানীয় জনগণের জীবন ও অর্থনীতিকে বিপন্ন করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অচলাবস্থা যার বড় প্রমাণ। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুথিদের বিধিনিষেধ-হামলা এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে যে হুমকি তৈরি করেছে তা বিশ্ব অর্থনীতিকেও চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
আরও পড়ুন
বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলে মার্কিন বা অন্য কোন বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি শান্তির পরিবর্তে উল্টো নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। তারা বলছেন, এ অঞ্চলের জন্য এমন একটা আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে সহযোগিতাভিত্তিক কূটনীতি, একক আধিপত্যহীন ব্যবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি ও যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক বৈরিতা কমাতে সৌদি আরব, ইরান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনা চালু রাখাও অত্যন্ত জরুরি। অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ অনেকের।
আরেকদল বিশ্লেষকের মতে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি অভিন্ন বাজার সৃষ্টি, জ্বালানি বাণিজ্যের বাইরেও যৌথ অবকাঠামো ও বিনিয়োগ প্রকল্প চালুর মাধ্যমে দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানো যেতে পারে। আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমতার ভিত্তিতে তা গড়ে তোলা সম্ভব। আর সেটিই চিরশত্রু দেশগুলোর মধ্যেও স্থিতিশীলতা আনতে পারে।




