ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে স্পেন থেকেই এই গ্রহণ সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। বিরল এই দৃশ্য উপভোগ করতে দেশটিতে অন্তত ৬০ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটকদের এই ঢল সামলাতে ৬৬০টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট, পার্কিং ও ক্যাম্পিং এলাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বনাঞ্চলে বড় জমায়েত থেকে যেন কোনোভাবে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে (যেমন পর্যটকদের ফেলে দেয়া সিগারেট), তা নিশ্চিত করতে ৩৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। স্পেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক সুরক্ষা ও জরুরি বিভাগের মহাপরিচালক ভার্জিনিয়া বারকোনস রয়টার্সকে বলেন, ‘স্পেনে এবার অত্যন্ত কঠিন এক গ্রীষ্ম পার করছি আমরা। একের পর এক বড় দাবানল হচ্ছে। তাই স্পার্ক বা আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে, এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি।’
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাদ্রিদের একটি কন্ট্রোল রুম থেকে আঞ্চলিক সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া সংস্থা এমেট জানিয়েছে, গ্রহণের দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে দাবানলের ঝুঁকি ‘উচ্চ’ বা ‘খুব উচ্চ’ পর্যায়ে থাকবে।
ইতোমধ্যেই স্পেনে দাবানলে প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বন প্রকৌশলীদের মতে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরের এই সপ্তাহটিতেই স্পেনে সবচেয়ে বেশি দাবানল ঘটে।
পর্যটকদের এই ভিড় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও শঙ্কিত। মাদ্রিদের উত্তরের বুইত্রাগো দে লোজোয়া শহরের একটি নাগরিক সংগঠন বন রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। দাবানল ঝুঁকির মুখে ত্রেস কান্তোস শহর গ্রহণের সব আয়োজন বাতিল করেছে। বন রক্ষা আন্দোলনের নেত্রী আনা হার্নান্দেজ বলেন, ‘গ্রামাঞ্চল এখন ভীষণ শুকনো। যত বেশি মানুষ আসবে, বিপদ তত বাড়বে।’
তবে এত ঝুঁকির মধ্যেও থেমে নেই পর্যটকদের তোড়জোড়। বুকিং ডটকম জানিয়েছে, বুর্গোস ও সোরিয়ার মতো শহরগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে। অ্যাস্টুরিয়াস অঞ্চলে গত বছরের তুলনায় বুকিং বেড়েছে ২৯২ শতাংশ। দেশটির ৭০ শতাংশ রেন্টাল ভ্যান বা কাফেলা ইতোমধ্যে বুক হয়ে গেছে।





