ফিলিস্তিনের জেনিন শহরের পাশে ছোট্ট পাহাড়ি এলাকা কাদিম। ২০০৫ সালে ইসরাইলের তৎকালীন সরকারের নির্দেশে যখন গাজা উপত্যকা আর পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি থেকে সব ইহুদি দখলদার আর ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হয়, ওই সময়েই দখলমুক্ত হয়েছিল কাদিমও। ২১ বছর পরে ফের দখলদারদের প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী কাদিম।
ইসরাইলের বর্তমান কট্টর ইহুদিবাদী সরকারের প্রশ্রয়ে, বৃহস্পতিবার রাজধানী তেলআবিব থেকে ৩০টি পরিবার কাদিমে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর পাহারায়, নীল-সাদা পতাকা ওড়াতে ওড়াতে ফিলিস্তিনের একের পর এক গ্রাম আর কৃষিজমি পার করে তারা। সাথে ছিল বাসাবাড়ি নির্মাণের উপকরণ, আসবাবপত্র, বিছানা-বালিশ ইত্যাদি।
২০০৫ সালে খালি করে ফেলা বসতি পুনঃনির্মাণে বাকি থাকা শেষ এলাকা ছিল কাদিম। এর আগে গানিম, সানুর ও হোমেশ এলাকা আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয় এবং ইসরাইলিরা পরিবারসহ বসবাস শুরু করে।
২০২২ সালের শেষ থেকে, পশ্চিম তীরজুড়ে শতাধিক নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার। গেলো বছর আগস্টে অনুমোদিত সাড়ে তিন হাজার আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১২শ' ইউনিট নির্মাণে বুধবার দরপত্র জারি করে তেলআবিব। পূর্ব জেরুজালেম থেকে শুরু করে মালে আদুমিম বসতি পর্যন্ত প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় হবে নতুন বসতি। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্বিপাক্ষিক সমাধানের পথে এ পদক্ষেপ বড় বাধা বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফানে দুজারিচ বলেন, ই-১ বসতি কার্যকরভাবে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ফলে এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আঞ্চলিক অখণ্ডতায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে।
দ্বিপাক্ষিক সমাধানের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নিন্দা জানায় পরাশক্তিধর যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং কানাডা। দেশগুলো আহ্বান জানায় অবিলম্বে পরিকল্পনা বাতিলের।
আন্তর্জাতিক আইনে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের সকল বসতি অবৈধ। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কয়েক দশক এসব পরিকল্পনা আটকে থাকলেও এবার আর বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো নিষেধ শুনছে না বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই শেষ হবে দরপত্র গ্রহণের কাজ। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য কঠিন হয়ে যাবে উদ্যোগটি বাতিল করা।





