১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে হেরে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকার তাইপেতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই চীন সংলগ্ন কিনমেন ও মাৎসু দ্বীপপুঞ্জ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি সই হয়নি।
রোববার ভারী বৃষ্টির মধ্যে ১৯৫৮ সালের চীন-তাইওয়ান সংঘাতের স্মারক উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানান লাই চিং-তে। ১৯৫৮ সালের এই সংঘর্ষটি ‘দ্বিতীয় তাইওয়ান প্রণালি সংকট’ নামে পরিচিত, যা ছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে শেষ বড় ধরনের সরাসরি যুদ্ধ।
পরে যুদ্ধাহত সাবেক সৈনিকদের উদ্দেশে লাই চিং-তে বলেন, ‘কমিউনিস্ট সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়ে দেশকে রক্ষা করার কথা আমরা ভুলে যাইনি। আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প কখনো ডগমগ হবে না। শান্তি কখনো আকাশ থেকে এমনি এমনি নেমে আসে না।’
১৯৫৮ সালের সেই যুদ্ধ প্রমাণ করে যে ‘শক্তিই শান্তির মূল চাবিকাঠি’ উল্লেখ করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ান, কিনমেন কিংবা অন্য কোনো দ্বীপের এক ইঞ্চি জমিও হাতছাড়া না করার মনোভাব ধরে রাখার পাশাপাশি দেশের সামরিক ব্যয় বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
চীনা ভূখণ্ড থেকে সবচেয়ে কাছের কিনমেন দ্বীপের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটারের কম। ১৯৫৮ সালের আগস্টে চীনের বাহিনী কিনমেন ও মাৎসু দ্বীপে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র বোমাবর্ষণ, বিমান হামলা ও নৌসংঘাত চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতায় তাইওয়ান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘাতটি অচলাবস্থায় শেষ হয়। ২৩ আগস্ট দিনটিকে তাইওয়ান চীনা আক্রমণ প্রতিহতের বার্ষিকী হিসেবে উদযাপন করে আসছে।
সম্প্রতি ২০২৪ সালের শুরু থেকেই কিনমেন সংলগ্ন তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত সমুদ্রসীমায় নিয়মিত ‘আইন প্রয়োগকারী’ টহল চালিয়ে আসছে চীনের কোস্টগার্ড, যা নিয়ে তাইপের ক্ষোভ রয়েছে। বেইজিংয়ের এসব পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে লাই বলেন, ৬৮ বছর ধরে চীন একদিনের জন্যও ভূখণ্ড বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামায়নি, যার ফলে পুরো ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার তাইওয়ান সরকার ঘোষণা করেছে যে আগামী বছরের সম্ভাব্য সামরিক ব্যয় প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলার (প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে যাবে। লাই চিং-তে এ বাজেট পাসে সবার জোর সমর্থনের আহ্বান জানান। তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্যের বিষয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।





