সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল (শনিবার, ২২ আগস্ট) রাত আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব সমন্বিত হামলা চালানো হয়। মোট ৫১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ হামলাই হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে দুজন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারাথিওয়াত সামরিক কমান্ড গতকাল (শনিবার, ২২ আগস্ট) রাত থেকে আজ (রোববার, ২৩ আগস্ট) সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। এছাড়া প্রতিবেশী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় একটি স্থানীয় সরকারি কার্যালয় ভবন, একটি সেভেন-ইলেভেন বিপণিবিতান ও একটি চুরি হওয়া গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। নারাথিওয়াতের গভর্নর বুনচুয়ায় হোমিয়াময়েন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ (রোববার, ২৩ আগস্ট) সকাল থেকে সরকারি কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ (রোববার, ২৩ আগস্ট) সকালে নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে গত ২০০৪ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহীরা। দুই দশকের এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত সাত হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। তবে শনিবারের হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
দক্ষিণাঞ্চলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সফরের আগে প্রায়ই এমন হামলার ঘটনা ঘটে থাকে। আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহর সফর করার কথা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করার সূচি রয়েছে। এর আগে গত মাসে নারাথিওয়াত প্রদেশের একটি তল্লাশিচৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনাসদস্য নিহত হন।





