ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে যুক্তরাষ্ট্র এবার অস্ত্র নয়, হাতে তুলে নিয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঝাণ্ডা। তাইতো ইরানের ওপর 'অর্থনৈতিক বয়কট অভিযান' নামে নতুন এক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। যার লক্ষ্যই হচ্ছে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে ইরানের বর্তমান সরকারকে একঘরে করে রাখা।
বিগত দুই দশকের বেশিরভাগ সময় ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে কাটিয়েছে। ফলে, মার্কিন এমন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে তারা অনেকটাই অনুভূতিহীন। বরং এ ধরণের চাপ দেশটির অর্থনীতিকে ইউরোপ থেকে দূরে ঠেলে নিয়ে গেছে এশীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের দিকে।
ইরানের সরকারি শুল্ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান অন্তত ১১২টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ৬'শ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। ট্যাঙ্কার-ট্র্যাকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হলো চীন। দেশটি ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্রয় করে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরাকে গ্যাসের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ ইরান। এরপরই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের রপ্তানির ১৩ শতাংশ আসে এই দেশ থেকে। এছাড়াও, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাবরিজ-আঙ্কারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ককে গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। এছাড়াও, ইরান তার প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে জ্বালানি, খাদ্য ও নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে।
শুধু রপ্তানিই নয়, তথ্য বলছে ২০২৪ সালে ইরান অন্তত ৮৭টি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮'শ ৫০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। আর শীর্ষ আমদানি অংশীদারদের মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চীন বা অন্যান্য দেশ যারা ইরানের ওপর তেল বা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল তারা কি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে নিজেদের বাণিজ্য কার্যক্রম চালাবে? যদিও, তা কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।





