যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ হাজার ৯০০ মানুষ। সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা করেছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আনুষ্ঠানিক সূত্রের বরাতে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, গত ছয় মাসে লেবাননে অন্তত ৪ হাজার ৩৫০ জন, ইরানে ৩ হাজার ৫২৭ জন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের পাল্টা হামলায় ৬০ জন ইসরাইলি এবং ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৭৫৭ জন সেনা আহত হয়েছেন।
সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৫৮০টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান ও তাদের মিত্ররা অন্তত ২ হাজার ৫৩টি হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০টি জাহাজ এই প্রণালি পার হলেও গত ছয় মাসে তা দৈনিক গড়ে মাত্র সাতে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে এ পর্যন্ত ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এসব হামলায় ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংকট সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জরুরি পেট্রোলিয়াম মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন ২৯ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এ যুদ্ধে ওয়াশিংটনের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। তবে অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনসহ এই ব্যয়ের প্রকৃত অঙ্ক ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের প্রায় ৬ শতাংশ ভূখণ্ড এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন এই যুদ্ধ সহজে থামার নয়।





