ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দিতে ওই দুই জেলার ২৭টি স্থানে অস্থায়ী শিবির খোলা হয়েছে, যার বেশির ভাগই স্কুল ভবন। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর এ সময়ে ঘিঞ্জি আশ্রয়শিবির, দূষিত পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কারণে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, বেঁচে যাওয়া মানুষদের জীবন রক্ষা, চিকিৎসাসেবা এবং মানসিক পরামর্শ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। গত বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘এই দুর্যোগ চোখের পলকে আমাদের কাছ থেকে মা, বাবা, ভাই ও বোনদের ছিনিয়ে নিয়েছে। আমাদের শরীর ক্লান্ত বলে বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই। আবার হৃদয় ভেঙে গেলেও একসঙ্গে বসে কান্নাকাটি করার সময় নেই।’
গত ২৬ আগস্ট সকালে বন্যা আঘাত হানার পর নদীর তীরবর্তী মানুষকে সরিয়ে নেয়া এবং মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগাম সতর্কবার্তা না দেয়ার সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এই দুর্যোগ ধারণার বাইরে ছিল।
তবে এশিয়ান মাউন্টেন অ্যাকাডেমিক অ্যালায়েন্স, স্টিমসন সেন্টার ও চীনের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের বিশেষজ্ঞরা এক প্রতিবেদনে জানান, হিমবাহ ভেঙে পড়ার কয়েক দিন আগেই সেখানে অস্থিরতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সঠিক আগাম সতর্কবার্তা থাকলে বহু জীবন বাঁচানো যেত।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলবায়ুর এই মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বালেন্দ্র শাহ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব। নেপাল সরকার বন্যাদুর্গত ১৫টি এলাকায় তিন মাসের জন্য দুর্যোগ ঘোষণা করেছে এবং জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে চার মাসের মানবিক সহায়তার আবেদন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।





