গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টলাইনগুলো লক্ষ্য করে প্রথমে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এরপর তারা মাকবানাহ, মাওজা ও জাবাল হাবাশি এলাকায় স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের অগ্রগতির মুখে জাবাল হাবাশির আল-রাহাবা শরণার্থী শিবির ও আশপাশের গ্রামগুলো থেকে শত শত পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে আবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।
বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সংঘাত বন্ধ থাকায় তারা নিজেদের এলাকায় ফেরার আশায় ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের আকস্মিক সংঘাত শিবিরের খুব কাছাকাছি চলে আসায় প্রাণ বাঁচাতে তারা দ্বিতীয়বারের মতো এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে আশ্রয়হীন মানুষগুলো চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন।
এদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হুতিদের এ আক্রমণ প্রতিহত করছে এবং বেশ কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। তাদের দাবি, তাইজ শহরের সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন করতেই হুতিরা হামলা চালিয়েছিল, যা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এ লড়াইয়ে উভয় পক্ষের কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক যান পাঠাচ্ছে।
লোহিত সাগরে নজরদারি ও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই কৌশলগত এ সড়কটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে হুতিরা। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবেই লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে হুতি গোষ্ঠী।





