ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতির পণ্য নিষিদ্ধ: অ্যান্ডি বার্নহাম

অ্যান্ডি বার্নহাম
অ্যান্ডি বার্নহাম | ছবি: বিবিসি
0

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যায্য ও অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মানিকন্ট্রোল ডটকমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, এই পদক্ষেপ ইসরাইলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অনভিপ্রেত নীতি মোকাবিলার লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ও বিপজ্জনক বিশ্বে ব্রেক্সিটের এক দশক পর যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দেয়ার আত্মবিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমি তা হতে দিতে প্রস্তুত নই।’

নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় তিনটি প্রধান ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য। প্রথমত, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) উপসংহারের সঙ্গে সংগতি রেখে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা। এবং তৃতীয়ত, জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলে বিতর্কিত ই১ মেগা বসতি নির্মাণসহ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে সহায়তা বা মুনাফা অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বর্তমান ইসরাইল সরকার ১০৪টি নতুন বসতির অনুমোদন দিয়েছে, যা বিগত দুই দশকের সম্মিলিত পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, কেবল চলতি বছরেই ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে বসতিস্থাপনকারীদের ১,৫০০টির বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার জন্য একটি নতুন মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে অন্তত ২০ হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পুরো ফিলিস্তিনি জনগণকে বর্তমানে মূল ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের আক্রমণের তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করে বার্নহাম বলেন, ওই আক্রমণ গাজা বা পশ্চিম তীরে ইসরাইল সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের কোনো অজুহাত হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে এই পদক্ষেপের জন্য ব্রিটেনের ইহুদি সম্প্রদায়কে দায়ী করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং যেকোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষ কঠোর হাতে দমন করা হবে।

এএম