পাহাড়ি এলাকায় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় জোর তৎপরতা; মাটির গভীরে হামলার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ইরানের নির্মাণকাজ
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ইরানের নির্মাণকাজ | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রের কাছে গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত একটি সন্দেহভাজন পরমাণু স্থাপনায় চলতি বছর নির্মাণকাজের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন তৎপরতা বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। অন্যদিকে মাটির গভীরে তৈরি এ ধরনের সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করতে হামলার নতুন উপায় খুঁজছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটিকে ইরানের ভবিষ্যৎ পরমাণু কর্মসূচির নিরাপদ কেন্দ্র বলে মনে করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

ইসরাইলি গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে সেন্ট্রিফিউজগুলো এই স্থানে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানার হুমকি দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে আঘাত হানতে পারি।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সেখানে কারা চলাচল করছে, তার সবই তাদের জানা।

সিএসআইএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রানাইট পাথরের তৈরি এই পাহাড় পেন্টাগনের সবচেয়ে ভারী বোমার জন্যও এক কঠিন লক্ষ্যবস্তু। ফলে ভূগর্ভস্থ এমন স্থাপনায় কার্যকর হামলার উপায় বের করতে তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর ঠিক আগে নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জে একটি ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা কেন্দ্র জরুরি সংস্কারের জন্য ১২ লাখ ডলারের চুক্তি অনুমোদন করেছিল পেন্টাগনের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি (ডিটিআরএ)। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মাটির গভীরে থাকা পরমাণু স্থাপনায় সফল হামলা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে ইরানের কিছু পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ এক জেনারেল আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ইসফাহানের গভীর পরমাণু স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি, কেবল প্রবেশপথগুলো বন্ধ করা গিয়েছিল। কারণ বর্তমানের বাঙ্কার বিধ্বংসী ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর (এমওপি) বোমা দিয়ে তা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব ছিল না। এ কারণে আরও গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম পরবর্তী প্রজন্মের পেনেট্রেটর বোমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনী।

সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাটি সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন, সমৃদ্ধকরণ বা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ধাতব ইউরেনিয়াম রূপান্তরের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। সেখানে টানেলের প্রবেশপথ মজবুত করা ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের কাজ চললেও এটি এখনো সরাসরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

এএম