আইএইএর পর্ষদে ইরানবিরোধী প্রস্তাব পাস, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোর ইঙ্গিত রাশিয়া-চীনের

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) লোগো
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) লোগো | ছবি: রয়টার্স
0

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রস্তাব পাস করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নিং বোর্ড। প্রস্তাবটিতে বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থনে পাস হওয়া এই সিদ্ধান্ত তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিলো। আল জাজিরার বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

দীর্ঘ ২০ বছর পর আইএইএর পর্ষদ এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাস করে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাল। চলমান মার্কিন-ইসরাইল সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ সামনে এলো।

আইএইএর অভিযোগ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট

আইএইএর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরমাণু নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটির (এনপিটি) আওতায় ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে নাতাঞ্জ, ফেরদো ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর থেকে আইএইএর পরিদর্শকেরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘোষিত পরমাণু উপাদান ও কেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে না পারাটা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

আইএইএর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ভিয়েনায় জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি রেজা নাজাফি জানান, অবিরত সামরিক হামলা ও হুমকির কারণে পরিদর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইরান তার এনপিটি প্রতিশ্রুতি বন্ধ বা স্থগিত করেনি।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে স্বাভাবিক পরিদর্শন প্রক্রিয়া ব্যাহত করেছে, আবার সেই অজুহাত দেখিয়েই আইএইএতে প্রস্তাব আনছে।

নিরাপত্তা পরিষদে যে পরিণতি হতে পারে

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলেও সেখান থেকে বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আসার সুযোগ কম। কারণ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন ওয়েস্টার্ন ব্লকের এই চাপকে ঠেকিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই প্রস্তাবকে পুঁজি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে বলে দাবি করলেও, আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি অতীতে জানিয়েছেন যে ইরান নিয়মতান্ত্রিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে নেই।

এএম