চাকচিক্যময় জীবনের আড়ালেই এক অন্ধকার মেঘ। বিশ্বমানের সুবিধা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়ভার, সম্পর্কের শূন্যতা, চিকিৎসাসেবার ভোগান্তি আর একাকিত্ব- যুক্তরাজ্যের হাজারো মানুষকে নিঃশব্দে ঠেলে দিচ্ছে আত্মহননের মিছিলে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি দপ্তর বলছে, প্রতি ৯০ মিনিটে আত্মহত্যায় প্রাণ হারাচ্ছেন ১ জন মানুষ। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
লন্ডনের এনএইচএস জিপি ডাক্তার জাকিয়া ওয়াদুদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখলাম, বাংলাদেশি এক মহিলা, ৩৪ বছর বয়স, কেয়ার ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, একজন পাকিস্তানি স্ক্যাম করে তার ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। যদি দেখেন যে, আগে কিছু ভালো লাগতো, আগে অনেক কিছু করতেন, এখন সেটা করেন না, রাতে ঘুম হচ্ছে না, অনেক অ্যাংজাইটি হচ্ছে, অকারণেই কান্না পাচ্ছে, তখন জিপির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’
আরও পড়ুন:
আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা।
যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘মদ এবং জুয়ায় আমাদের কমিউনিটির অনেক ছেলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে পরিবারে অনেক অশান্তি। বিভিন্ন কারণে মানুষ অশান্তির মধ্যে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’
যুক্তরাজ্যে প্রতি ৪ জনে ১ জন আর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। শুধু লন্ডনেই এই সংখ্যা ২০ লাখের বেশি।
আত্মহত্যা কমাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে শুধু ইংল্যান্ডেই ১৫৯টি সরকারি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।





