শেখ হাসিনার ১০১ চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি: রণধীর

রণধীর জয়সওয়াল
রণধীর জয়সওয়াল | ছবি: সংগৃহীত
0

সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হওয়া ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নয়াদিল্লিকে কিছুই জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

আজ (শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চুক্তি পর্যালোচনার কথা জানতে পেরেছে। তবে ঢাকা থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি।’

জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ভারত তার স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের মেয়াদে স্বাক্ষরিত হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনর্মূল্যায়ন করছে ঢাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এটি সব চুক্তির ঢালাও বাতিল নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি চুক্তি আলাদাভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যেসব চুক্তি ও ক্ষেত্র অডিটের অধীনে রয়েছে

ট্রানজিট ও বন্দর ব্যবহার

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ট্রানজিট ফি ও রুট সুবিধা পর্যালোচনা করছে ঢাকা। ফি পুনর্নির্ধারণ করা হলে ভারতের ট্রানজিট খরচ বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত

ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল ও ঝাড়খণ্ডের আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

ঋণসহায়তা ও অবকাঠামো প্রকল্প

ভারতের ৭০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট) অধীনে সড়ক, রেলপথ ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক সম্প্রসারণসহ একাধিক প্রকল্প বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি অডিটের অধীনে রয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সুবিধা না দেয়ার নীতি বজায় ছিল। সম্প্রতি পরিবর্তন এলেও অবৈধ অভিবাসন, চোরাচালান ও উগ্রবাদের পুনরুত্থান রোধে কৌশলগত যোগাযোগ বহাল রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকনির্দেশনা

ঢাকা এখন কেবল ‘ভারতকেন্দ্রিক’ নির্ভরতা থেকে বের হয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ানের মতো শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। নয়াদিল্লিও বাস্তবমুখী অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ও ৫৪ নদী

সংবাদ সম্মেলনে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়ায় প্রসঙ্গটি ওঠে। গঙ্গার ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমের পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে জয়সওয়াল জানান, দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সক্রিয় রয়েছে।

জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। পানিসম্পদ সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা দ্বিপাক্ষিক যৌথ নদী কমিশন এবং নির্ধারিত আলোচনা কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়।’ তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে আলোচনা শুরু না হলেও দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ে যোগাযোগ বহাল রয়েছে বলে জানান তিনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম