ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি ও রুশ তেল: নতুন দ্বিমুখী চাপে ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তৈরি জ্বালানি সংকট এ দুইয়ের মাঝে পড়ে নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়েছে ভারত। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতার মধ্যে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা নয়াদিল্লির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মস্কোর যুদ্ধের রসদ যোগানো বন্ধ করতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে গত শুক্রবার একটি নতুন আইনে সই করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসার নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারত তার ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, গত গ্রীষ্মে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে।

মার্কিন এ শুল্কের সংকেতের কড়া জবাব দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাজারের গতিপ্রকৃতি দেখে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে তারা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই একক পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেয় এবং ভারত রুশ তেল কেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের একক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করায় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ায় সেই হিসাব-নিকাশ উল্টে যায়।

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রধান অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি সই করলেই যে ভারতের জ্বালানি নীতি নিয়ে চাপ কমে যাবে, তা ভাবা ভুল হবে। তার মতে, মার্কিন শুল্কনীতির স্থায়ী রূপ না আসা পর্যন্ত ভারতের কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে যাওয়া উচিত হবে না।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতকে একদিকে যেমন স্বস্তিদায়ক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি স্বার্থ রক্ষা করতে হচ্ছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বহুমুখী সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন, তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এএম